• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

নারীদের হত্যা করাই তার নেশা

  • প্রকাশিত ০৮:১৩ রাত নভেম্বর ২৮, ২০১৯
সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ
বুধবার আদালত প্রাঙ্গণে ৯ নারীর হত্যাকারী সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ। ঢাকা ট্রিবিউন

গত ৬ বছরে ৯ নারীকে হত্যা করেছেন সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ

টাঙ্গাইলে ৯ নারীর হত্যাকারী সিরিয়াল কিলার বাবু শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৭ নভেম্বর) টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সারা দেশে ৯ নারীকে খুন করার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বাবু শেখ।

সখীপুর থানার  ওসি (তদন্ত) এএইচ এম লুৎফুল কবির জানান, গত ৯ জুলাই রাতে উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের আমড়াতৈল গ্রামের মৃত বাবর আলীর স্ত্রী সমেলা ভানু খুন হন। সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধ করে ওই হত্যা করা হয়। মৃত সমেলার ছেলে হোসেন আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেন।

এদিকে, গত ১৯ নভেম্বর নাটোরে অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ। ওই মামলায় আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় টাঙ্গাইলের সমেলা ভানুকে হত্যার কথা জানান তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সখীপুর থানার অধীনে গ্রেফতার দেখিয়ে টাঙ্গাইলে পাঠানো হয়। টাঙ্গাইল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সমেলা ভানু বাদে গত ৬ বছরে আরও ৮ নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বাবু শেখ। এমনকি, সমেলা ভানুকে হত্যার পর টাঙ্গাইলেই গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে রুপভানু বেগম নামে এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ৪০ হাজার টাকা লুট করেন সিরিয়াল কিলার বাবু। শুধু তাই নয়, তার নির্মমতার শিকার ৯ নারীর মধ্যে ৬ জনকে হত্যার আগে ধর্ষণ করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, এই ৯টি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দু'টিতে সহযোগী ডাবু তার সাথে ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন বাবু। লুট করা স্বর্ণালংকার তিনি তিনি কামরুল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। সবসময়ই কামরুলের কাছেই লুট করা মালামাল বিক্রি করতেন বাবু। চুরির মাল ক্রয় করার অপরাধে পুলিশ কামরুলকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বাবু শেখ দাবি করেন, নওগাঁর রানীনগর থানার এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাকে খুনের মিথ্যা মামলায় আসামি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পালিয়ে নওগাঁ থেকে নাটোর চলে যান তিনি। কিন্তু কাজ না পাওয়ায় এক পর্যায়ে তিনি লুটপাট ও নারী হত্যার নেশায়্য জড়িয়ে পড়েন।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বাবু শেখের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। 

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমির হোসেন বলেন, "বাবু শেখ একজন সিরিয়াল কিলার। খুন করাই তার নেশা। বুধবার সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আরও তথ্যের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।"