• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশুর লিঙ্গ জানতে আল্ট্রাসনোগ্রাফি নিষিদ্ধ

  • প্রকাশিত ০৯:০১ রাত নভেম্বর ২৯, ২০১৯
আল্ট্রাসনোগ্রাফি
প্রতীকী ছবি।

'আগেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে শিশুর লিঙ্গ জানা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এতোদিন এ বিষয়ে তেমন ভাবে নজর দেওয়া  হয়নি'

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে অনাগত শিশুর লিঙ্গ জানা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, "এখন থেকে কোনো হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে শিশুর লিঙ্গ জানা যাবে না। গত ১৫ নভেম্বর মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক "মা-মনি প্রজেক্ট"-এর সভায় সকল চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য চিকিৎসক সহ জেলার সকল হাসপাতালে চিঠি দেয়া হয়েছে।"

তবে, দেশের প্রচলিত আইনে এই রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া এখতিয়ার তার আছে কিনা জানতে চাইলে সিভিল সার্জন মো. শাহ আলম বলেন, "আগেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে শিশুর লিঙ্গ জানা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এতোদিন এ বিষয়ে তেমন ভাবে নজর দেওয়া হয়নি। এখন বিষয়টি নজরে আনা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জনের এখতিয়ার ছিল ও আছে। তাই এই সিদ্ধান্ত কার্যকরে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।"

এই নির্দেশনা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সকল সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ নভেম্বর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে জন্ম নেয়া এক নবজাতককে ঘিরে ধুম্রজাল তৈরি হয়। ওইদিন দুপুরে হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দেন দিপ্তী রানী দাস। কিন্তু সিজারিয়ানের আগে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে তার গর্ভে ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। এ কারণে তাকে অন্যের সন্তান দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন দিপ্তী। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তার পরিবারের সদস্যরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডিএনএ টেস্ট করে সত্যতা যাচাই করা হবে বলে আশ্বাস দিলে নবজাতক কন্যাকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন দিপ্তী। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত এলো।