• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৭ রাত

রাস্তার পাশে পড়ে ছিল বাঘডাশটির মৃতদেহ

  • প্রকাশিত ০৫:২২ সন্ধ্যা নভেম্বর ৩০, ২০১৯
বাঘডাশ/গাজীপুর
বাঘডাশটির মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন বন বিভাগের একজন সদস্য। মো. মোরসালিন সৈকত/সৌজন্য

বাঘডাশটির মাথায় আঘাত ও রক্তপাতের চিহ্ন ছিল। পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে, রাতের কোনো এক সময়ে এটি রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে

গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে একটি বাঘডাশের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগ। 

শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জয়দেবপুরের ভুরুলিয়া এলাকা থেকে ওই বন্যপ্রাণীটির মৃতদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগের ডিভিশন অফিসের সদস্যরা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ভুরুলিয়ার গজারি বনে ছবি তুলতে যান রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার মো. মোরসালিন সৈকত। এ সময় তিনি রাস্তার পাশে একটি বাঘডাশের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বন বিভাগকে খবর দিলে বন বিভাগের সদস্যরা মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।


আরও পড়ুন - মুন্সীগঞ্জে ‘বাঘের’ ঘোরাফেরা, আসল রহস্য কী?


মোরসালিন সৈকত ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বাঘডাশটির মাথায় আঘাত ও রক্তপাতের চিহ্ন ছিল। পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে, রাতের কোনো এক সময়ে এটি রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে।”

সৈকত জানান, মৃত বাঘডাশটি দেখে তিনি বিষয়টি বন বিভাগের ডিভিশন অফিসের মালি ভূইয়াকে জানান। 

যোগাযোগ করা হলে ভূইয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন,“ বাঘডাশের মৃতুর খবরটি বনপ্রহরী আহসানউল্লাহকে জানাই। পরে তিনি সেটি উদ্ধার করেছেন।”

রাস্তার পাশে বাঘডাশটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছবি: মো. মোরসালিন সৈকত/সৌজন্য

অপরদিকে, বনপ্রহরী আহসানউল্লাহ বলেন, “বন্যপ্রাণীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে চলন্ত গাড়ির ধাক্কায় প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে।”  

এদিকে, ঢাকা ট্রিবিউনের হাতে আসা মৃত বন্যপ্রাণীর ছবিটি পাঠানো হয় বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলাকে। ছবি দেখে তিনি ওই বন্যপ্রাণীটিকে বড় বাঘডাশ বা বাঘডাসা (Large Indian civet) বলে চিহ্নিত করেন।


আরও পড়ুন - বাঘ বেড়েছে সুন্দরবনে


তিনি বলেন, “বাঘডাশকে গন্ধগোকুল অথবা খাটাশও বলা হয়ে থাকে। এরা নিশাচর ও বৃক্ষচারী প্রাণী। বাঘডাশ মূলত মাংসাশী, তবে ফলমূলও খায়। এদের গায়ের রং হালকা বাদামি, গলা ও লেজে সাদা ডোরাকাটা দাগ থাকে। এরা লম্বায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট এবং ওজনে ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত মাটিতে গর্ত করে বাসা বানায় এই প্রাণীটি।”

তিনি আরও বলেন, “একসময় প্রাণীটির সারা বাংলাদেশেই বিচরণ করতো। কিন্তু খাদ্যের অভাব, আবাসস্থল ও বনজঙ্গল ধ্বংস ইত্যাদি কারণে এটি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) রেড লিস্ট গ্রন্থে এটিকে বিপন্ন তালিকায় রাখা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রাণীটি সরংক্ষিত।”


আরও পড়ুন - আড্ডা ফেলে আহত পেঁচাটিকে বাঁচালেন তারা