• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

বিকাশের ২৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের মাস্টারমাইন্ড জেলা ছাত্রলীগ নেতা

  • প্রকাশিত ০৬:৪৮ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ১, ২০১৯
সংবাদ সম্মেলন
রবিবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন সাতক্ষীরার এসপি মোস্তাফিজুর রহমান। ঢাকা ট্রিবিউন

ছিনতাইয়ের ২৬ লাখ টাকার ২২ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয় সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিকের হাতে

সাতক্ষীরায় কালিগঞ্জে বিকাশের ২৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ। রবিবার (১ ডিসেম্বর) পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।

ঘটনা প্রসঙ্গে এসপি সাংবাদিকদের জানান, গত ৩০ অক্টোবর শ্যামনগর উপজেলা বিকাশ এজেন্টের শাখা ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার, ফিল্ড কর্মকর্তা তামিম ও কাস্টমার কেয়ার অফিসার মিথুন সাতক্ষীরা সাউথ ইস্ট ব্যাংক থেকে বিকাশের ২৬ লাখ টাকা নিয়ে মোটর সাইকেলে শ্যামনগর যাওয়ার সময় কাটাখালি এলাকায় পৌঁছালে ৩ ছিনতাইকারী তাদের পথ রোধ করে। এই ৩ ছিনতাকারী হলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক, সাইফুল ইসলাম ও মামুনুল ইসলাম ওরফে দীপ। তারা ওই সময় ২ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুঁড়ে বিকাশের কর্মকর্তাদের কাছে থাকা ২৬ লাখ টাকা ছিনতাই করেন।

এসপি আরও জানান, ছিনতাই করার পর তারা আশাশুনি উপজেলায় যান এবং মোটর সাইকেলের রং পরিবর্তন করেন। পরে তারা সাতক্ষীরায় রওনা দেন। এ সময় আরেকটি মোটরসাইকেল তাদের পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে। ছিনতাই করা ২৬ লাখ টাকা থেকে সাদিককে ২২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

পরে এই ঘটনায় মামলা দায়ের হলে অভিযুক্ত মামুনুল ও সাইফুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন এই ঘটনার মূল হোতা সাদিক।

এদিকে গ্রেফতার ২ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত টাকা ও ছিনতায়ে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কালিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল যৌথভাবে গত ৩০ নভেম্বর সাতক্ষীরা শহরের বকচরা বাইপাস সড়কের আমিননগর চার রাস্তার মোড়ে অভিযান চালায়। এ সময় ছিনতাইকাদের সহযোগীরা গুলি ছুড়তে শুরু করলে বন্দুক যুদ্ধে গ্রেফতার দুই আসামি নিহত হন। পরে ওই এলাকা থেকে অস্ত্রসহ আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন- আজিজুর রহমান ও সামী হাসান। এসময় সেখান থেকে ২টি দেশীয় তৈরী ওয়ান শুটারগান, ৪ রাউন্ড গুলি, দুটি সুইচ যুক্ত চাকু, নগদ ১০হাজার টাকা, ১টি ব্লু রংয়ের রেজিস্টেশন বিহীন ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার, তাদের অন্যান্য সহযোগীদের নাম-ঠিকানা এবং তাদের দলনেতার নামসহ সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের নাম প্রকাশ করেন। আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।   

পরে, তাদের স্বীকারোক্তি মতে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত শহরের রসুলপুর গ্রামের আনিচুর রহমান, শহরের মুনজিতপুর এলাকার আরশাদ আলীর ছেলে আজিজুল ইসলাম ও আশাশুনির কল্যাণপুর এলাকার ইসহাক আলীর ছেলে মেহেদি হাসানকে আটক করা হয়।

এসপি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামি একই উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শামিম এহসানকে রবিবার ভোর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ছিনতাইয়ে জড়িত ৯ আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হলো। মূল আসামি সাদিক এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।"