• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

'রোহিঙ্গাদের কারণে' কক্সবাজারে বাড়ছে এইডসের ঝুঁকি

  • প্রকাশিত ০৭:৩৪ রাত ডিসেম্বর ১, ২০১৯
রোহিঙ্গা
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থী। সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

শুধুমাত্র নভেম্বর মাসেই কক্সবাজারে ১৯ জন এইডস রোগী সনাক্ত করা হয়েছে যার মধ্যে ১৮জনই রোহিঙ্গা

কক্সবাজার জেলায় ৫৫৩ জন এইডস রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য। এই কারণে এইডসের ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয়রাও। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এইচআইভি ট্রিটমেন্ট সেন্টার ও প্রিভেনশন অব মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন অব এইচআইভি (পিএমটিসিটি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫৫৩ জনে আক্রান্তের মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৩২৫ জন, উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ১২২ জন ও ইউনিসেফ পরিচালিত পিএমটিসিটি-তে ১০৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। ২০১৮ সালে এইডস রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৫৫ জন। গত ১ বছরে আরও ৯৮ জন মরণঘাতি এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, "মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার পর থেকেই কক্সবাজারে এইডস রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। চলতি বছরের শুধুমাত্র নভেম্বর মাসেই কক্সবাজারে ১৯ জন এইডস রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮জনই রোহিঙ্গা।"

"রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে এই রোগের প্রভাব পড়ার ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে", যোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে পিএমটিসিটি'র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. নুর মোহাম্মদ বলেন, "রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আগমনের পর থেকে এই পর্যন্ত ১০৬ জন এইডস আক্রান্ত গর্ভবতী মাকে দেওয়া হয়েছে। গত এক মাসে ২৯ জন গর্ভবতী মায়ের শরীরে এইচআইভি সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জন রোহিঙ্গা ও ৩ জন বাংলাদেশি নারী।"

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুল মতিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "রোহিঙ্গাদের কারণে এইডস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে কক্সবাজারে। চিকিৎসা নিতে আসা বেশীরভাগ রোগী রোহিঙ্গা। গত ১ বছরে ৯৮ জন ব্যক্তি নতুন করে এইডস-এ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা।"

কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল জানিয়েছেন, ‘এমনিতেই পর্যটন শহর কক্সবাজার। দেশি-বিদেশি পর্যটিকরা এখানে আসেন। এর মধ্যে আবার এসে ঢুকেছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষরা শহরের বিভিন্ন হোটেল ও মোটেলগুলোতে অবাধে যৌনমিলনসহ নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে বাড়ছে এইডস-এর ঝুঁকি। এই ঝুঁকি এড়াতে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের চলাফেরার উপর কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে।"