• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

বিজয়ের মাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হলো মুক্তিযোদ্ধাকে

  • প্রকাশিত ০৫:১১ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ২, ২০১৯
নরসিংদী

কোনো ধরনের দায়িত্ব পালন ছাড়াই নীরব দর্শকের মতো দূরে দাঁড়িয়ে ছিলো পুলিশ

একাত্তরের বীর সেনাদের কেউ মারা গেলে প্রথানুযায়ী তাদের প্রতি জানানো হয় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। কিন্তু বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিনে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমকে। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

জানা যায়, শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মারা যান উপজেলার চরমান্দালিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম। ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান মনোহরদী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান তারা। পরদিন (রবিবার) সকাল দশটায় মরহুমের জানাজার সময় নির্ধারণ করে পরিবার। কিন্তু থানার পরামর্শ অনুযায়ী জানাজার সময় একঘণ্টা পিছিয়ে মাইকিং করে এলাকায় জানিয়ে দেওয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধা হাশেমের পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিবার সকাল ১০টায় জানাজার নির্ধারিত স্থানে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই সেখানে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিনিধি। নিয়মানুযায়ী জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় মরদেহ। জানাজার আগে সবধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিয়মানুযায়ী পুলিশ সদস্যদের বিউগল বাঁশি বাজানো, স্যালুট প্রদান ও এক মিনিট নীরবতা পালন করার কথা। 

কিন্তু জানাজার নামাজের সময় হয়ে গেলেও বিউগল বাঁশি ছাড়াই জানাজাস্থলে উপস্থিত হন দুই পুলিশ সদস্য। কোনো ধরনের দায়িত্ব পালন ছাড়াই তারা নীরব দর্শকের মতো দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জানাজার নামাজে দেরি দেখে বিষয়টি থানায় জানানো হলে থানা থেকে, “লোক পাঠানো হচ্ছে” বলে জানানো হয়।

নির্ধারিত সময় থেকে আধাঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও থানা থেকে আর কেউ সেখানে যাননি। অবশেষে সকাল সাড়ে এগারোটায় জানাজার নামাজ শেষে দুপুর বারোটার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমকে। থানা পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে বিরক্ত হন উপস্থিতরা। তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। 

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নূর হোসেন নামে একজন লেখেন, “রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

মনোহরদী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান তারা বলেন, বারবার থানায় বিষয়টি জানানোর পরেও তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড লজ্জাজনক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমানের শামিল।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে মনোহরদী থানা অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি, “এখন মিটিংয়ে ব্যস্ত” বলে সংযোগ কেটে দেন।