• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

সৌদিতে নিয়ে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি, প্রতিদিন চলতো ধর্ষণ

  • প্রকাশিত ০৯:১৫ রাত ডিসেম্বর ২, ২০১৯
ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি।

সম্প্রতি দেশে ফেরা ওই নারীর স্বামী ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, বাড়ি ফিরে নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে জ্ঞান হারান তার স্ত্রী 

লোভনীয় প্রস্তাবে গৃহকর্মীর চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে আশঙ্কাজনক হারে দেশে ফিরে আসছেন বাংলাদেশি নারীরা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি থেকে বেঁচে ফিরে বীভৎস নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন তারা। সম্প্রতি দেশে ফেরা ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর ক্ষেত্রেও ঘটেছে এমন ঘটনা। 

গত ২৬ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ওই তরুণী। তার দু'দিন পর ২৮ নভেম্বর শ্রীমঙ্গলের "মুক্তি মেডিকেয়ার" হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। তবে অর্থের অভাবে ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে রবিবার (১ ডিসেম্বর) ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি। 

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই নারীর স্বামী জানান, সরকারের সহায়তায় গত ২৬ নভেম্বর দেশে ফেরেন তার স্ত্রী। বাড়ি ফেরার পর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। টাকা রোজগারের আশায় গেলেও, একটি টাকাও দেশে পাঠাতে পারেননি তিনি।

ওই ব্যক্তি আরও বলেন, তার সঙ্গে বিয়ের সাত-আট মাসের দিকে স্থানীয় আদম ব্যাপারি মোস্তফা কামালের প্রলোভনে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল সৌদি আরবে পাড়ি দেন তার স্ত্রী। তাকে সেখানে গৃহকর্মীর চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। ভিসার পেয়ে সৌদি আরবের দাম্মামে পৌঁছানোর পর এক পর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, ৩-৪ লাখ টাকায় তাকে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। যৌনকাজে লিপ্ত না হলে তার ওপর চালানো হতো নানা নির্যাতন। একটি কক্ষ রেখে প্রতিদিন কয়েকজন তাকে যৌনকাজে বাধ্য করতো। এসময় জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে তার বুক ও স্পর্শকাতর স্থানও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া তার হাত-পা ও উরুতে জখমের দাগ রয়েছে। 

স্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, প্রতিদিন দলবেঁধে চার-পাঁচজন মিলে তাকে ধর্ষণ করতো। তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন তিনি। একপর্যায়ে সৌদি পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। 

ওই ব্যক্তি আরও বলেন, "আদম ব্যবসায়ী মোস্তফাকে জানালে সে মিথ্যা কথা বলে উড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে ৬ মাস ২৬ দিন পর দেশে ফেরেন আমার স্ত্রী।"

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মোস্তফা কামালের বাড়িতে গেলে সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে জানানো হয়, মোস্তফা "বাড়িতে নেই।" 

মুক্তি মেডিকেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে হাসপাতালের সেবক পংকজ তালুকদার বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক সাধন চন্দ্র ঘোষ ও প্রধান সেবিকা দীপ্তি দেব ওই নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তির সময় তার মানসিক অবস্থায় ঠিক ছিল না।

চিকিৎসক সাধন চন্দ্র ঘোষ ও প্রধান সেবিকা দীপ্তি দেব জানান, ওই নারীর যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোড়া ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ক্ষতগুলো সারতে একটু সময় লাগবে। শারীরিক নির্যাতনের কারণে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন।

এদিকে ওই নারীর বাবা জানান, বার বার দালাল মোস্তফা কামালের কাছে মেয়ের খবর চেয়েছেন তিনি। মোস্তফা জানান, তার মেয়ে সৌদির কারাগারে আছে। 

কমলগঞ্জের উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, মেয়েটির চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারের যোগাযোগ করা হয়েছে। মামলা করার পরিকল্পনা চলছে।