• শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২ রাত

বুয়েটে র‍্যাগিং ও রাজনীতি সংশ্লিষ্টতা থাকলেই বহিষ্কার

  • প্রকাশিত ১০:১৯ সকাল ডিসেম্বর ৩, ২০১৯
বুয়েট
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ফটক। সংগৃহীত

এদিকে সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটির মধ্যদিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সকল দাবি পূর্ণ হলো 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) র‍্যাগিং বা রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেলেই অভিযুক্ত ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করবে।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মিজানুর রহমানের সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নীতিমালা প্রকাশিত হয়। এছাড়া র‌্যাগিংয়ের কারণে কোনও ছাত্রের মৃত্যু হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনকি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হবে। একইসঙ্গে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি করলেও চিরতরে বহিষ্কার করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়।

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন আবরার হত্যাকাণ্ডে বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেসময় উপাচার্যকে তিন দফা দাবি পূরণ হলে ২৮ ডিসেম্বর থেকে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান তারা।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কেউ সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি করলে চিরতরে বহিষ্কার করা হবে। এছাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে জড়িত থাকলে, রাজনৈতিক পদে থাকলে, রাজনীতি করতে কাউকে উদ্বুদ্ধ বা বাধ্য করলে সতর্কতা, জরিমানা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে কোনো মেয়াদে বহিষ্কার করা হবে।

র‌্যাগিংয়ের কারণে কোনো ছাত্র গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার শিকার হলেও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনার পর থেকে বুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছেন শিক্ষার্থীরা।


আরও পড়ুন -  আবরার হত্যায় বুয়েটের ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার


এরপর গত ১৩ নভেম্বর আবরারের বাবার দায়ের করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ৷ অভিযোগপত্র জমার প্রতিক্রিয়ায় ১৪ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, তিনটি দাবি বাস্তবায়ন হলে তারা একাডেমিক অসহযোগ থেকে সরে গিয়ে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন। সেই দাবিগুলোর একটি ছিল অভিযোগপত্রে নাম আসা ছাত্রদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার।

পরবর্তীতে গত ২১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ জন শিক্ষার্থীকে আজীবন বা স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৬ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিও দেওয়া হয়।

এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দফা দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ নভেম্বর বুয়েটের আহসানউল্লাহ ও সোহরাওয়ার্দী আবাসিক হলের ৯ ছাত্রকে হল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। সোহরাওয়ার্দী হলের ১৭ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক এবং আহসানউল্লাহ হলের চার ছাত্রকেও সতর্ক করা হয়।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের তৃতীয় দফা দাবি, সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি ও র‍্যাগিংয়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে শাস্তির নীতিমালা প্রণয়ন করে একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে তা সংযোজন করা। এদিকে সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটির মধ্য দিয়ে এ দাবিটিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মেনে নেওয়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সব দাবি পূর্ণ হলো।