• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

ইটভাটার আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে ভোলার খেজুর গাছ

  • প্রকাশিত ০৩:২৭ বিকেল ডিসেম্বর ৩, ২০১৯
খেজুর গাছ-ভোলা
খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত ভোলার গাছিরা ঢাকা ট্রিবিউন

শীত মৌসুমে খেজুরের গুড় বিক্রির অর্থ দিয়ে সংসারের খরচ যোগান অনেকেই

বইতে শুরু করেছে শীতের হিমেল হাওয়া। দ্বীপ জেলা ভোলার গ্রামগুলোতে গাছিরাও হয়ে পড়েছেন “মধুবৃক্ষ” খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে। একসময় গ্রামের আনাচে-কানাচে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা খেজুর গাছের কদর আজকালকার দিনে অনেক বেশি। কারণ এই মৌসুমেই খেজুরের রস থেকে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের খাবার।

রস সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছে হাঁড়ি ঝুলিয়ে পরদিন ভোরবেলার তীব্র শীত উপেক্ষা গাছে উঠে রস সংগ্রহ করেন গাছিরা। গাছ থেকে তাজা রস নামিয়ে বাড়িতে এনে সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় পাটালি ও ঝোলা গুড়। সব মিলিয়ে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলার গাছিরা।

তবে রয়েছে শংকাও। ইটভাটার ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের কারণে কমতে শুরু করেছে খেজুর গাছের সংখ্যা। গাছিদের অভিযোগ, ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যাপক হারে নিধনের কারণে বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে খেজুর গাছ।      

শীত মৌসুমে খেজুরের গুড় বিক্রির অর্থ দিয়ে সংসারের খরচ যোগান অনেকেই।

সদর উপজেলার কুঞ্জপট্টী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাছি সিরাজ বেপারী। তিনি জানান, ‘‘শীত শুরুর আগেই আমরা নিজের জমানো অর্থ ও বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এক বছরের জন্য গাছ ইজারা নিই। এখন প্রস্তুতি চলছে। এ বছর শীত একটু দেরিতে শুরু হওয়ায় আমরা দেরি করেই রস সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি।’’

স্থানীয়রা জানান, খেজুরের গুড় তৈরি এই এলাকার একটি ঐতিহ্য। খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরির সঙ্গে ভোলা সদর উপজেলার কয়েকশ' পরিবার জড়িত। একসময় জেলার প্রায় প্রতিটি পরিবারেই খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি হতো। তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং ভেজালের ভিড়ে এই শিল্প হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ভোলার সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “শুধু খেজুর গাছই নয়, ইটভাটায় অনেক ধরনের গাছই পোড়ানো হয়। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকবল খুবই কম। মাত্র দু’জন কর্মী কাজ করছেন। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছি। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হলেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”