• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৯ সন্ধ্যা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ভারত থেকে বাংলাদেশি ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেব না

  • প্রকাশিত ০৬:১২ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ৩, ২০১৯
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ফাইল ছবি

ভারতের পুশ ইনের চেষ্টা উস্কানিমূলক নয় জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যদি হাজার হাজার বা শত শত হতো তাহলে আলোচনার বিষয় হতো। কিন্তু এখানে অল্প সংখ্যক মানুষ। তাছাড়া, এ বিষয়ে ভারত এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি দেয়নি’

বাংলাদেশি ছাড়া কাউকে ভারত থেকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নাগরিক ছাড়া কাউকে ভারত থেকে দেশে ঢুকতে দেব না। যদি বাংলাদেশি নাগরিক নিশ্চিত হয় তাহলে বিবেচনা করে দেখা হবে।”

ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ ইনের খবরে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“যারা আসতে চাচ্ছেন তারা বাংলাদেশি কিনা নিশ্চিত নই। তারা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বিজিবি তাদের ঢুকতে দেয়নি। সংখ্যায় হবে কয়েক শ। আগেও তারা (ভারত) ২৫-৫০ জন করে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছে,” যোগ করেন তিনি।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা যারা বিভিন্নভাবে ভারতে ঢুকে গিয়েছিলেন তারা বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছিলেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “সুনিশ্চিত না হয়ে কাউকে দেশে ঢুকতে দেব না। আমাদের দেশের সুনিশ্চিত নাগরিক হলে তাদের কীভাবে গ্রহণ করব সেটা আমরা দেখব।”

ভারতে গিয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জটিলতায় পড়ে ফিরতে দেরি হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের অবশ্যই গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

ভারতের পুশ ইনের চেষ্টা উস্কানিমূলক নয় জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, “যদি হাজার হাজার বা শত শত হতো তাহলে আলোচনার বিষয় হতো। কিন্তু এখানে অল্প সংখ্যক মানুষ। তাছাড়া, এ বিষয়ে ভারত এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি দেয়নি।”

মানুষজনকে জোর করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত কিছু জানায়নি। তাহলে জোর করে পাঠাচ্ছে কেন বলব?”

পুশ ইন আগের চেয়ে কিছুটা বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, “তবে কোনো ভারতীয় নাগরিক পুশ ইনের মাধ্যমে এখানে আসবে বলে আমরা মনে করি না।”

হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায়ের দিন আসামির প্রকাশ্যে আইএসের টুপি পরার বিষয়টির তদন্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “কেউ না কেউ তো দিয়েছে...আমরা যতটুকু দেখেছি কারাগার থেকে এমন কিছু আসেনি বলে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে। পুলিশ বলছে তারাও এটা সরবরাহ হতে দেখেনি। কাজেই কীভাবে আসল তা তদন্ত ছাড়া বলতে পারব না। তবে সবই বেরিয়ে আসবে।”

এ ঘটনায় কোনো উদ্বেগ না দেখা মন্ত্রী বলেন, “এতে উদ্বেগের কী আছে? তারা সব সময় বলছেন তারা সেই মতাদর্শী। আমরা বলেছি এটা আমাদের দেশে নেই।”

“দেশে আইএসের কোনো ঘাঁটি নেই, কোনো কিছুই নেই। এ মতাদর্শ যারা বিশ্বাস করেন বা বলেন তাদের সবাই ধরা পড়েছে। তারা টুপি পকেটে নিয়ে রেখেছেন বা কীভাবে পেয়েছেন সেটি না জেনে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে পারছি না। পরবর্তীতে আমরা এটি জানিয়ে দেব।” যোগ করেন মন্ত্রী।

গুলিতে বিএসএফ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিজিবি সদস্যকে কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে যে সংবাদ এসেছে সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয় গণমাধ্যম যা বলছে সে সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আমরা ততটুকু জানি যা ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানায়। ভারতের গণমাধ্যম কী বলছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। যখন জানব তখন ব্যবস্থা নেব।”