• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষে বিএসএফের চৌকি, পাঁচ দিনের মধ্যে সরানোর প্রতিশ্রুতি

  • প্রকাশিত ০৯:৪০ রাত ডিসেম্বর ৩, ২০১৯
বিএসএফ
বাংলাদেশ সীমান্তে টহলরত বিএসএফ। ফাইল ছবি এএফপি

‘নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতর কোনো বাহিনীরই স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো স্থাপনা থাকতে পারে না। বিএসএফ সেই নিয়ম ভঙ্গ করে স্থাপনাটি করেছে’

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাহেবনগর সীমান্তের শূন্যরেখার ৭০ গজের মধ্যেই বসানো হয়েছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অস্থায়ী চৌকিটি। মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সাহেবনগর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে তা স্বীকার করেছে বিএসএফ। তবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তারা চৌকিটি সরিয়ে নেবে বলে বিজিবি-কে আশ্বাস দিয়েছে তারা। বিজিবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে।

রাজশাহী বিজিবির ব্যাটালিয়ন-১ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই বাহিনীর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেখানে চৌকি স্থাপন করা হয়েছে সেটি শূন্যরেখার ৭০ গজের মধ্যে। নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতর কোনো বাহিনীরই স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো স্থাপনা থাকতে পারে না। বিএসএফ সেই নিয়ম ভঙ্গ করে স্থাপনাটি করেছে। যদিও তারা এখন স্বীকার করছে এবং পাঁচ দিনের মধ্যে সেটি সরিয়ে নেবে বলে আমাদের জানিয়েছে।


আরও পড়ুন - চারঘাট সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলিতে বিএসএফ সদস্য নিহত


তিনি বলেন, “মঙ্গলবার দুপুরে সাহেবনগর বিওপি কমান্ডার নায়েক সুবেদার শওকত আলী বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কমান্ডারের সঙ্গে পতাকা বৈঠকে বসেন। বৈঠকটি ৪০ মিনিট চলে। এ সময় বিএসএফ দাবি করে, কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওই সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসীরা অবাধে আসা যাওয়া করবে। তাই দুই দেশের ভালোর জন্যই তারা এটা করেছে। তবে আমরা বলেছি উভয় দেশের অনুমতি ছাড়া তারা এটা করতে পারেন না। তাই আমরা এর তীব্র প্রতিবাদপত্র পাঠাবো।”

উল্লেখ্য, গোদাগাড়ী উপজেলার সাহেবনগর সীমান্ত ফাঁড়ির এক কিলোমিটার পূর্বদিকে পদ্মা নদী থেকে বের হয়ে একটি শাখা নদী উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী হয়ে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার চরলবণগোলা এলাকায় ঢুকেছে। তবে নদীটির ভাঙনে সেখানকার সীমানা পিলারগুলো গত বছরই বিলীন হয়ে যায়। সম্প্রতি নদীতে পানি কমে গিয়ে পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে ছোট একটি চর জেগেছে। চরটিতে গিয়ে কিছুদিন ধরে বিজিবি সদস্যরা টহল দিতেন। চরটি বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত বলে নৌকা ছাড়া হেঁটেই বিজিবি সদস্যরা সেখানে যাতায়াত করতেন।


আরও পড়ুন - অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশিকে মারধর, আটকের পর বিএসএফ সদস্যকে হস্তান্তর


গত শুক্রবার দিনগত রাতে বিএসএফ সদস্যরা বাঁশের মাচা পেতে ওপরে খড় ও পাটকাঠি দিয়ে একটি অস্থায়ী চৌকি নির্মাণ করে সেখানে। পরদিন শনিবার সকাল থেকে ভারতের চরলবণগোলা ফাঁড়ির বিএসএফ সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়ে টহল দেয়। সোমবার সকালে বিজিবি সদস্যরা সেদিকে গেলে বিএসএফ সদস্যরা পালিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যরা রবিবার দিনে একবার ও রাতে আরেকবার চরের কাছাকাছি গিয়ে চলে যাওয়ার সংকেত দিলে বিএসএফ সদস্যরা চৌকি ছেড়ে পালিয়ে যায়। রাতে আবারও নৌকায় করে বিএসএফ সদস্যরা চরে ওঠার চেষ্টা করলে বিজিবি সেখানে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে বিএসএফ নৌকা ঘুরিয়ে চলে যায়। তবে গভীর রাতে বিএসএফ আবারও চরের অস্থায়ী চৌকিতে গিয়ে অবস্থান নেয়। সোমবার সকালে বিজিবি সেখানে গেলে বিএসএফ সদস্যরা আবারও পালিয়ে যায়।


আরও পড়ুন - ‘এক বছরে নওগাঁ থেকেই ১৯ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ’