• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

সাত বছর বয়সী ‘পথের কাঁটা’-কে গলাটিপে হত্যা করেন সৎমা

  • প্রকাশিত ১২:০০ দুপুর ডিসেম্বর ৫, ২০১৯
গোপালগঞ্জ সৎছেলে হত্যা
সৎছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করে গোপালগঞ্জের আদালতে বুধবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আঁখি বিশ্বাস নামে এই নারী ঢাকা ট্রিবিউন

কৌশলে শিশুটিকে হত্যার পর পানিতে ফেলে দিয়ে ছেলে ‘নিখোঁজ হয়েছে’ বলে প্রচার করেন তিনি

গোপালগঞ্জে সাত বছর বছর বয়সী শিশু জয় বিশ্বাসকে “পথের কাঁটা” বলে মনে করতেন সৎমা আঁখি বিশ্বাস। তাই গলাটিপে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর জয়ের মরদেহ বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেন তিনি।

জয়কে একাই হত্যা করেন জানিয়ে বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে গোপালগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ুন কবিরের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আঁখি।

নিহত জয় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ধর্মেন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে ও স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আঁখি জানান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ধর্মেন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে ও রঘুনাথপুর পশ্চিমপাড়া কেজি স্কুলের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী জয় বিশ্বাস গত ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘরে বসে পড়াশোনা করছিল। এসময় তিনি জয়ের মাথায় চড় মারলে খাট থেকে মেঝেতে পড়ে অচেতন হয়ে যায় সে। এরপর তিনি শিশুটির গলাটিপে হত্যা করে বাড়ির পাশে শ্যামল বিশ্বাসের পুকুরে ফেলে দেন। 

হত্যাকাণ্ডের সময় জয়ের বাবা ধর্মেন্দ্র বিশ্বাস ও বড় বোন রিতু বিশ্বাস বাড়িতে ছিলেন না।  

তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই সাখাওয়াত হোসেন মৃধা জানান, সৎছেলে জয়কে “পথের কাঁটা” মনে করতেন আঁখি বিশ্বাস। তাই কৌশলে তাকে হত্যার পর পানিতে ফেলে দিয়ে ছেলে “নিখোঁজ হয়েছে” বলে প্রচার করেন।

গত ৩০ নভেম্বর শনিবার সকালে রঘুনাথপুর গ্রামের শ্যামল বিশ্বাসের পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় জয়ের মরদেহ দেখতে পান টুটুল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ওই পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। সন্দেহ হলে জয়ের সৎমা আঁখি বিশ্বাসসহ তিনজনকে গত ৩ নভেম্বর রাতে রঘুনাথপুর থেকে আটক করে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সৎছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন আঁখি।