• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৮ সকাল

নারী গৃহকর্মীদের প্রতি সহিংসতা রোধে এসআরডিডাব্লি’র মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

  • প্রকাশিত ০৯:৫০ রাত ডিসেম্বর ৫, ২০১৯
রেড-অরেঞ্জ
৫ ডিসেম্বর রাজধানীর প্রেসক্লাবে মানববন্ধন, র‌্যালি ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগৃহীত

এসআরডিডাব্লিউ প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের ১৬ হাজার নারী গৃহকর্মীর অধিকার আদায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতসহ সার্বিক কল্যাণ সাধন করা

সিকিউরিং রাইটস ফর উইমেন ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স (এসআরডিডাব্লিউ) নামে একটি প্রকল্পের ব্যানারে “আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০১৯” উপলক্ষে “কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নারী গৃহকর্মীদের প্রতি সহিংসতা রোধে” মানববন্ধন, র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর ২০১৯) রাজধানীর প্রেসক্লাবে মানববন্ধন, র‍্যালি ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

অক্সফাম বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস), ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন (ক্যাম্পে), নারী মৈত্রী, রেডঅরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স, আন্ডার প্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেপ বাংলাদেশ) ও হ্যালোটাস্ক লিমিটেড-এর যৌথ আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।   

অনুষ্ঠানে বিলস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট শিরিন আক্তার (এমপি) বলেন, “কনভেনশন ১৮৯ ও ১৯০ কে বাস্তবায়ন করতে হলে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। প্রতিবছর এই ১৬০০০ কর্মীকে নিয়ে সমন্বিত সমাবেশ করে ক্রমাগত দাবি তুলতে হবে, তাহলে দাবি আদায় সম্ভব হবে। নারী গৃহকর্মীরা আজ অনেক সচেতন, তবে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।”  

তিনি উন্নত দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের তুলনা করে বলেন, “মালিক ও শ্রমিক সম্মানের জায়গায় এক। কিন্তু আমাদের মানসিক কারণে আমাদের দেশে সেই সম্মান প্রতিষ্ঠা করা এখনও সম্ভব হচ্ছে না। নারী গৃহকর্মীর মর্যাদার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে একটি অফিস প্রতিষ্ঠা করে প্রতিটি নারী গৃহকর্মীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে, যাতে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়। পাশাপাশি, এ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নীতিমালাকে আইনে রূপান্তর করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় সংসদে যত দ্রুত সম্ভব এ দাবি তুলে ৭১ বিধি ও পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় জাতির সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থা করতে হবে এবং এটি সব সময় ও ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে।” এ সময় তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে এ দাবিগুলোকে রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার উপরও গুরুত্বারোপ করেন। 

বিশেষ অতিথি “নারী মৈত্রী”র নির্বাহী পরিচালক শাহিন আক্তার ডলি বলেন, “নারী গৃহকর্মীর মর্যাদা ও সম্মানের জন্য আজকে যে প্রতিবেদন ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে, তা খুবই সুনির্দিষ্ট যা আগামীর পথ চলায় দিক নির্দেশনা দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “নারী গৃহকর্মীর মর্যাদা ও সম্মানের দাবি একটি সামাজিক আন্দোলন যাতে ৭টি প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে একসাথে পাশাপাশি কাজ করতে হবে।”  

জাতীয় গৃহ শ্রমিক নেটওয়ার্ক-এর সমন্বয়কারী আবুল হোসেন বলেন, “২০০২ সাল থেকে গৃহশ্রমের সম্মান ও মজুরির জন্য আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি তুলেছিল জাতীয় গৃহ শ্রমিক নেটওয়ার্ক। কিন্তু সরকারের উদাসীনতার কারণে এখনও এ অন্দোলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বর্তমান নীতিমালার প্রয়োগযোগ্য নীতিমালাগুলো সরকারকে অবশ্যই আইনে পরিণত করতে হবে এবং সরকারকেই গৃহকর্মের মজুরি নির্ধারণ করে দিতে হবে।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি অক্সফাম বাংলাদেশ-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী গীতা রানি অধিকারী বলেন, “নিজের অধিকার নিজেই জেনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চার হতে হবে।”

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রেডঅরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স-এর হেড অব প্রোগ্রাম নকিব রাজীব আহমেদ, ক্যাম্পেই-এর পরিচালক তপন কুমার দাস, হ্যালোটাস্ক-এর চিফ অপারেশনস অফিসার মেহেদী স্মরণ প্রমুখ।     

প্রসঙ্গত, ৫ বছর (২০১৯ - ২০২৪) মেয়াদী এসআরডিডাব্লিউ (SRDW) প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের ১৬,০০০ নারী গৃহকর্মীর অধিকার আদায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতসহ সার্বিক কল্যাণ সাধন করা। পাশাপাশি গৃহকর্মকে একটি প্রতিষ্ঠানিক কাজ হিসেবে অন্তর্ভুক্তি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়পূবর্ক নীতিনির্ধারক, সরকার ও সমাজে গৃহকর্মের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করে করা।