• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২২ মাস পর আদালতে মামলা

  • প্রকাশিত ১১:০৩ রাত ডিসেম্বর ৫, ২০১৯
নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সড়কে ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মেয়র আইভী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ। ফাইল ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার বাদী মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলাটি করেন

নারায়ণগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার ২২ মাস ১৮ দিন পর আদালতে মামলা হয়েছে। 

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার বাদী মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলাটি করেন। 

নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফাহমিদা খাতুনের আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর মডেল থানাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন অস্ত্র প্রদর্শনকারী নিয়াজুল ইসলাম খান (৫২), নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামসহ (৪৯) ৯ জনের নাম উল্লেখ করে করে এবং অজ্ঞাত প্রায় ৯০০ থেকে ১০০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে অন্যরা হলেন- মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু (৪৬), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন (৩৫), মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল (৪৮), স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব (৪২), জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন (৩২), যুবলীগ কর্মী নাসির উদ্দিন ওরফে টুন্ডা নাসির (৫২), যুবলীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদ (৫২)।

মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার বলেন, “বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসা কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি চাষাড়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কে মেয়র আইভীর উপর মামলার আসামি ৯ জনসহ অন্যরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং আরও প্রায় একহাজার ব্যক্তি বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছোড়ে। ওইদিন এ ঘটনায় মেয়র আইভীসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। সংঘর্ষের সময় মেয়রকে মানবঢাল তৈরি করে উদ্ধার করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “সাংসদ শামীম ওসমানের ইন্ধনে ও প্রচারণাতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৫ দিন পর ২২ জানুয়ারি আমি বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় এজাহার দিলেও হলেও তা পুলিশ মামলা হিসেবে না নিয়ে জিডি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। পরে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত আবেদন করা হয়। তাতেও কোনো ফল না হওয়ায় উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করি। উচ্চ আদালতের আদালতের বিচারক এম এনায়েতুর রহিম ও মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এর গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ১ ডিসেম্বর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতকে নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের নিদের্শ মোতাবেক বুধবার নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে বিকেলে এই আদেশ দেন।”

এ বিষয়ে জানতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সড়কে ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মেয়র আইভী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হন। এ ঘটনায় ২৫ জানুয়ারি রাতে পুলিশের কাজে বাঁধা ও হামলার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।