• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫৩ বিকেল

প্রধান বিচারপতি: এটা বাড়াবাড়ি

  • প্রকাশিত ১১:১৭ রাত ডিসেম্বর ৫, ২০১৯
সুপ্রিম কোর্ট
শুনানি চলাকালীন আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। ফোকাস বাংলা

'আপিল বিভাগে আইনজীবীদের এমন আচরণ নজিরবিহীন'

সুপ্রিম কোর্টে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আচরণকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার মেডিকেল প্রতিবেদন জমা ও জামিন বিষয়ে শুনানির দিন ধার্যের আদেশ দেয়ার পরও আদালত কক্ষে তার আইনজীবীদের উপস্থিতি ও হইচই করতে থাকলে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, "এটা বাড়াবাড়ি। সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার।"

বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আরও বলেন, "আদেশ দেয়া হয়ে গেছে। এজলাসে বসে আদালতের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।"

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি প্রধানের সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানিয়ে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন দাখিল না করায় সেটিসহ দু'টি প্রতিবেদন কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে সকালে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ১২ ডিসেম্বর বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসবে বলে আদেশে বলা হয়।

এ শুনানি চলাকালেই রাষ্ট্রপক্ষ ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে হইচই হয়। হইচইয়ের মধ্যেই আদালত আদেশ দেন। দুই পক্ষের হট্টগোল ও হইচইয়ের মধ্যে বাধ্য হয়ে সকাল ১০টার দিকে বিচারপতিরা আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পরও বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীরা সেখানে বসে থাকেন।

বিরতির পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারপতিরা পুনরায় এজলাসে আসেন এবং অন্য মামলার কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু তখনও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে হইচই করছিলেন। 

তারপরও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত কক্ষে অবস্থান নেন এবং হইচই করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা "উই ওয়ান্ট জাস্টিস" বলে স্লোগান দেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ডায়াসে দাঁড়ালে প্রধান বিচারপতি বলেন, "আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনও দেখিনি। আপনারা যে আচরণ করছেন তা নজিরবিহীন। আপনারা আমাদের আদেশ পরিবর্তনে চাপ সৃষ্টি করছেন।"

এ সময় খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, "আমি শেষবারের মতো কথা বলতে চাই।"

জবাবে আদালত বলেন, "আমরা আদেশ দিয়েছি। আর কোনো কথা শুনবো না।"

এ সময় বিএনপি প্রধানের আরেক আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আরজি জানান। জবাবে আদালত বলেন, "আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৃহস্পতিবার শুনবো।"

এতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তুমুল হইচই শুরু করেন। এর মধ্যেই আদালতের ক্রম অনুসারে মামলা ডাকা হয়। কিন্তু বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ছাড়া আর কোনো শুনানি হবে না। এক পর্যায়ে সরকারপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।

এর মধ্যেই ক্রমানুসারে আসা অন্য মামলাটির শুনানির দিন ধার্য করে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারপতিরা।