• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

নাইক্ষ্যংছড়ির আওয়ামী লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে পাহাড়িদের ভূমি দখলের অভিযোগ

  • প্রকাশিত ১১:১৪ সকাল ডিসেম্বর ৬, ২০১৯
নাইক্ষ্যংছড়ি
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিউল্লার বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেন ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জনগণ ঢাকা ট্রিবিউন

গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে চট্টগ্রামের জিইসি এলাকার একটি হোটেলে গোপন বৈঠককালে শফিউল্লাহ, কক্সবাজারের মৌলভী ছালামতউল্লাহ, উখিয়ার সৌদি প্রবাসী আব্দুল মজিদ ও এক পাকিস্তানিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ

বান্দরবানের উপজেলার বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল্লা'র বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে ১১টি ক্ষতিগ্রস্ত পাড়ার চাক ও মারমা সম্প্রদায়ের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। 

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে অনতিবিলম্বে পর্যটনের নামে ভূমি দখল ও সরকারি অর্থ অপচয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা। 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির ২৭০, ২৭২ ও ২৬৯ নম্বর সোনাইছড়ি মৌজায় ১১টি পাড়ার চাক ও মারমারা জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে শফিউল্লাহ পর্যটনের নামে জুম চাষের শতাধিক একর ভূমি জমি জবরদখল করেছেন। পর্যটনের জনশূন্য এলাকায় পর্যটনের নামে তিনি অপচয় করেছেন সরকারের ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- থোয়াইগ্যা চাক, ওয়াই মং চাক, অলকা ত গ্যা, মমে মারমা প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি দেন চাক ও মারমা সম্প্রদায়ের নেতারা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, চাক ও মারমাদের জীবনের একমাত্র সম্বল ওই ভূমি। কিন্তু স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা কিংবা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে পর্যটনের নামে শতাধিক একর জুম ভূমি দখল করেছেন। 

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, দখল হওয়া জমিতে বান্দরবান জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০১৮-২০২০ অর্থ বছরে ইতোমধ্যেই ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় সোনাইছড়িতে ৪০ মিটার বাঁধ টু ভ্যান বক্স কালভার্ট নির্মাণের নামে অর্থ লোপাট করা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাঙ্গু ওয়ে’র নামে দুটি প্রকল্প খোদ চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ বাস্তবায়ন করছেন বলে দাবি করা হয়। 

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, পর্যটনকেন্দ্র হলে এলাকায় উন্নয়ন হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমি জবরদখল করে পর্যটন করার পক্ষে আমরা কেউ নই। 

ভূমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মো. শফিউল্লাহ বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি খাস জায়গায় পর্যটনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন হলে ওই এলাকায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, এখানে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। 

প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে চট্টগ্রামের জিইসি এলাকার একটি হোটেলে গোপন বৈঠককালে শফিউল্লাহ, কক্সবাজারের মৌলভী ছালামতউল্লাহ, উখিয়ার সৌদি প্রবাসী আব্দুল মজিদ ও এক পাকিস্তানিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে কক্সবাজার ও নাইক্ষ্যংছড়িতে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের ঘাঁটি ও জঙ্গি সংযোগের অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা।