• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৮ সকাল

ভর্তি পরীক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে টাঙ্গাইলবাসীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

  • প্রকাশিত ০৬:৫৩ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ৭, ২০১৯
তাবু-টাঙ্গাইল-ভর্তি পরীক্ষা
ভর্তি পরিক্ষার্থীদের থাকার জন্য বানানো অস্থায়ী তাবু। ঢাকা ট্রিবিউন

পরীক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'টাঙ্গাইলের মানুষ এবার পরিক্ষার্থীদের যেভাবে সহায়তা করেছেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এক কথায় অভূতপূর্ব।'

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধাসহ সার্বিক সহায়তা করে অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের মানুষ।

এলাকাবাসীর এমন উদ্যোগে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই শনিবার (৭ ডিসেম্বর) ৩৪টি কেন্দ্রে প্রায় ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে বিপাকে পড়েন। মানুষের চাপ থাকায় আবাসিক হোটেলগুলো ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। বেড়ে যায় যানবাহনের ভাড়াও। তাই এবার পৌরসভার উদ্যোগে পরিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাস টার্মিনাল, বাইপাস সড়কের রাবনা মোড়, নগর জলফৈ মোড় ও টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশনে সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়। সেখানে পরীক্ষার্থী ও তাদের সাথে আসা লোকজনদের অভ্যর্থনা জানান এই কাজে নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকরা।

শুধু তাই নয়, আগতদের আবাসনের কোনো ব্যবস্থা না থাকলে পাঠিয়ে দেয়া হয় পৌরসভায়। সেখানে রেজিস্ট্রেশন শেষে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া শহরের বিভিন্ন মিলনায়তন, কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ, বাসা-বাড়িতে কিংবা পুলিশের বানানো তাবুগুলোতে, যেখানে তাদের সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পৌরসভা সূত্র জানায়, দু’দিনে থাকার জন্য প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী নাম রেজিস্ট্রেশন করেন।

এদিকে পরীক্ষার দিন সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র চিনিয়ে দিতে ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত ছিলেন। পরীক্ষার্থীদের চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়ে যাতে অচলাবস্থার সৃষ্টি না হয়, সেজন্য ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি শহরের প্রধান প্রধান সড়কে স্বেচ্ছাসেবক ও স্কাউটের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনা ছাড়াই কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়ার জন্য জেলা বাস মালিক সমিতি বিনা ভাড়ায় ৬টি বাসের ব্যবস্থা করে। এর পাশাপাশি জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনাভাড়ায় কয়েকটি অটোরিকশা প্রদান করে। এ বাদেও পরিক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র দেখিয়ে বিনা ভাড়ায় শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

অন্যদিকে, হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো যাতে খাবারের মূল্য বাড়িয়ে না দেয় সেজন্য জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা থেকে হোটেল মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাজশাহী থেকে আসা পরীক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, "এবার শিক্ষার্থীদের যেভাবে সহায়তা করেছে টাঙ্গাইলের মানুষ তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এক কথায় অভূতপূর্ব।" 

ময়মনসিংহ থেকে আসা পরীক্ষার্থী সুজিত রায় বলেন, "বাস থেকে নামার পর থেকেই স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা পেয়েছি। তাই থাকার জায়গা কিংবা কেন্দ্র খুঁজে পেতে কোন অসুবিধা হয়নি।"

পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউন’কে বলেন, "প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নিয়ে সকল মহল থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামীতে আরো সুশৃঙ্খলভাবে এধরনের কাজ করা যাবে।"

এব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে হেল্প ডেক্স স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়া তাবু টাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও পরিক্ষার্থীদের জন্য সার্বক্ষনিক বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়।"