• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

ওসি'র দেহরক্ষীর গুলিতে ২ আনসার সদস্য আহত

  • প্রকাশিত ১২:১৪ দুপুর ডিসেম্বর ৯, ২০১৯
আনসার-পুলিশ
কন্সটেবলের শটগানের গুলিতে আহত দুই আনসার সদস্যকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকা ট্রিবিউন

গাড়ির ঝাঁকুনিতে গুলি বেরিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ওসি'র দেহরক্ষীর দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কনস্টেবল  

সিরাজগঞ্জ সদর থানার দেহরক্ষীর দায়িত্বে নিয়োজিত কনস্টেবল রেজাউল ইসলামের শটগানের গুলিতে দুই আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। রবিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা আনসার ও ভিডিপি ক্যাম্পের সামনে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু ইউসুফ।

আহত দুই আনসার সদস্য হলেন - সহকারী প্লাটুন কমান্ডার মো. ওবায়দুল্লাহ (৩৩) ও সাধারন সদস্য মতিউর রহমান (৩৫)। তারা আবদুল্লাহ শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। বর্তমানে দু’জনই সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, রবিবার দুপুরে আনসার ও ভিডিপি ক্যাম্পের সামনে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময় তাদের সামনে দিয়ে বেপরোয়া গতিতে পুলিশ লাইন্সের দিকে যাচ্ছিল সদর থানার একটি পিকআপ। গাড়ির পেছনে সদর থানার ওসির বডিগার্ড রেজাউল শটগান হাতে বসে ছিলেন। হঠাৎ করে কয়েকটি গুলি বেরিয়ে গাড়ির ত্রিপল ভেদ করে ওই দুই আনসার সদস্যকে আঘাত করে। সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তারা। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তবে, গুরুতর আহত হলেও বর্তমানে তাদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রোকন-উজ্জামান।

এদিকে আনসার সদস্যদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নাকি অসাবধানতাবশত হয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে, এবিষয়ে আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের জেলা কমান্ডড্যান্ট থেকে একটি অবগতিপত্র জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আনসার ও ভিডিপি কমান্ডড্যান্ট মির্জা সিফাত-ই-খুদা ঢাকা ট্রিবিউন'কে বলেন, "জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে পত্র মারফত এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ ঘটনাটি অসাবধানতাবশত হয়েছে দাবি করে বলেন, "ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। গুলিবিদ্ধ দুই আনসার সদস্যদের ব্যাপারে সার্বক্ষনিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।"

এপ্রসঙ্গে এএসপি আবু ইউসুফ রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকা ট্রিবিউন'কে বলেন, "পুলিশের গুলিতে আনসার সদস্যদের আহত হবার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের চিকিৎসার সব খরচ পুলিশ বহন করবে। তদন্তে অভিযুক্ত হলে পুলিশ কনস্টেবল রেজাউলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত কনস্টেবল রেজাউল বলেন, "দুপুরে শহরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষের সময় ওসি স্যার পুলিশ লাইনে মিটিংয়ে ছিলেন। তাকে দ্রুত নিয়ে আসতে আমরা পুলিশ লাইনে যাচ্ছিলাম। পিকআপভ্যানে একটি শটগান ও একটি গ্যাসগান ছিল। পেছনে আমি একাই ছিলাম। পিকআপটি জোরে চালানোয় ঝাঁকুনিতে অসাবধানতাবশত লোডেড শটগান থেকে গুলি বেরিয়ে যায়।"