• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০ সকাল

সুদানে বঙ্গবন্ধুর নামে বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের ক্যাম্প

  • প্রকাশিত ০৯:৫২ রাত ডিসেম্বর ৯, ২০১৯
সুদান
সৌজন্যে

এসময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান ফর্মড পুলিশ ইউনিটের কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

সুদানের দারফুর এলফেশার সুপার ক্যাম্পে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের ক্যাম্পের নামকরণ করা হয়েছে “বঙ্গবন্ধু ক্যাম্প”। 

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের পুলিশ কমিশনার ড. সুলতান তিমুরি। এসময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান ফর্মড পুলিশ ইউনিটের কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

বঙ্গবন্ধু ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুলতান তিমুরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। 

বাংলাদেশের মিশন এই প্রথম বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের কোনো ক্যাম্পের নামকরণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে করা হয়েছে। ক্যাম্পের নামকরণ করেছেন দারফুরে বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম। 

বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মাসুক মিয়া এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

বঙ্গবন্ধুর নামে ক্যাম্পের নামকরণ করায় সুলতান তিমুরি কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হালিমকে ধন্যবাদ জানান। এসময় তিনি নিয়ালা সুপার ক্যাম্পের নিরাপত্তা দেওয়া এবং সুষ্ঠুভাবে সুদান সরকারের কাছে হস্তান্তরে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ এফপিইউ এর প্রশংসা করেন।

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, "বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্যের নামে তাদের ক্যাম্পের নামকরণ করে থাকে। যেমন-তাঞ্জানিয়া ক্যাম্পের নাম 'কিলিমানজারো', ইন্দোনেশিয়ার ক্যাম্পের নাম 'গারুদা'। আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও জাতির জনককে বিশ্বের বুকে পরিচিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের ক্যাম্পের নামকরণ বঙ্গবন্ধুর নামে করা হয়েছে।" 

"এলফেশার সুপার ক্যাম্পে বর্তমানে ৩৫টি দেশের প্রায় ২ হাজার নাগরিক কর্মরত রয়েছে। আমি আশা করি, এই নামকরণের মাধ্যমে এই ৩৫টি দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে উৎসাহী হবে।" 

পরে পুলিশ কমিশনার ড. সুলতান তিমুরি বঙ্গবন্ধু ক্যাম্পের ডাইনিং হলের এন্টিরুমে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ফটোগ্যালারি পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিট রোটেশন-১১, গত ২৫ মে নিয়ালা সুপার ক্যাম্পে তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করে। ১৯ নভেম্বর নিয়ালা সুপার ক্যাম্প সুদান সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিট এলফেশার সুপার ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। 

এর আগে, নিয়ালায় বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের ক্যাম্পের সেমিনার হলের নামকরণ বঙ্গবন্ধুর নামে করা হয়েছিল। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুকে "ওর্য়াল্ড ফ্রেন্ড" উপাধি দেওয়ায় বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিট র‌্যালির আয়োজন করে এবং নিয়ালা সুপার ক্যাম্পে বঙ্গবন্ধু মেডিটেশনপার্ক স্থাপন করে। এছাড়াও নিয়ালা জাদুঘরে আরবি ভাষা সম্বলিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং নিয়ালা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে ইংরেজি ভাষায় অনুদিত বই উপহার দেওয়া হয়।