• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

গরুর জন্যই হত্যাকাণ্ড!

  • প্রকাশিত ০৯:৫২ রাত ডিসেম্বর ৯, ২০১৯
রাজশাহী
উদ্ধারকৃত গরু। ঢাকা ট্রিবিউন

হত্যার আগে প্রথমে আব্দুল মজিদ নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করানো হয়েছিল। এরপর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে খুনিরা

রাজশাহী নগরীর দাশপুকুরে খামারিকে হত্যা করে গরু লুট করার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। সেইসাথে আটজন আসামিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি খামার থেকে নিয়ে যাওয়া চারটি গরু ও বাছুর উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়ায় থানায় খামারি মজিদ হত্যাকাণ্ড ও তার চারটি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সাজিদ হোসেন জানান, চারদিন আগে তিনজনের পরিকল্পনায় হত্যা করা হয় খামারি আব্দুল মজিদকে। হত্যার আগে প্রথমে আব্দুল মজিদ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করানো হয়েছিল। এরপর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে খুনিরা। চারটি গরু লুট করার জন্যই তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটনায়।

সাজিদ হোসেন আরও জানান, গত ৪ ডিসেম্বর রাতে দাশপুকুর এলাকা থেকে মজিদকে খুন করে তার চারটি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনা অনুসন্ধানের সময় মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন, নগরীর রাজপাড়া থানার বহরমপুর এলাকার হামিদুর রহমান বাবু (৩৫), হড়গ্রাম নতুনপাড়ার রবিউল ইসলাম (৩৮), চন্দ্রিমা থানার উজিরপুর এলাকার আব্দুস সামাদ (৫০),  আবুল কাশেম (৪১) ও মকবুল আলীর স্ত্রী আশুরা (৪৮)। গত শনিবার রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

সাজিদ হোসেন বলেন, “সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যা মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন, দাশপুকুর এলাকার আরিফুল ইসলাম (২৮), বহরমপুর আলীগঞ্জ এলাকার  মিলন আলী (৩০) ও বহরমপুর এলাকার  জিন্দার (৪৮)। এদের রবিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

উপ-পুলিশ কমিশনার সাজিদ হোসেন জানান, আব্দুল মজিদকে প্রথমে নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করানো হয়। এর পর আসামি মিলন ও জিন্দার মিলে হাত দিয়ে গলাটিপে শ্বাসরোধে করে হত্যার চেষ্টা করে। এতে তারা ব্যর্থ হয়। পরে আসামি আরিফুল ইসলাম মাফলার দিয়ে গলা পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। এর পর তারা দুইটি গাভী ও দুইটি বাছুর একটি ভটভটিতে (শ্যালো মেশিন চালিত একধরনের গাড়ি) তুলে পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, নগরীর নগরীর উজিরপুর এলাকা থেকে লুট হওয়া চারটি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকা থেকে ভটভটিও জব্দ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ, গত  ৪ ডিসেম্বর রাতের দাশপুকুর বাইপাস সড়কের পাশে খামারি আব্দুল মজিদ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তার খামার থেকে লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় চারটি গরু। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে আব্দুস সালাম বাদী হয়ে রাজপাড়ায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।