• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

জাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগকর্মীর মারধর

  • প্রকাশিত ০৮:৪৭ রাত ডিসেম্বর ১০, ২০১৯
জাবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। সংগৃহীত

অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী বলেন, ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। গত কয়েকদিন ধরে আমাদের ঝামেলা চলছিল। সে আমার সঙ্গে কথা বলছিল না

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দ্বিতীয় বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী আরেফিন আলম সানী বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের (দ্বিতীয় বর্ষ) ও আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ওই নারী শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে বাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নেমে রিকশাযোগে বিভাগে যাচ্ছিলেন ওই নারী শিক্ষার্থী। পথিমধ্যে রিকশা থামিয়ে কথা বলতে চান আরেফিন। কিন্তু ওই ছাত্রী কথা না বলে রিকশা থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করলে তার ব্যাগ ধরে টানাটানি শুরু করেন আরেফিন। বিরক্ত হয়ে মুঠোফোন বের করে ওই নারী শিক্ষার্থী তার বন্ধুদেরকে ফোন করতে চাইলে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে দৌড়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে চলে যান আরেফিন। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই নারী শিক্ষার্থীকে চড় মারলে আরেফিনের কাছ থেকে নিজের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে কয়েকজন বন্ধুকে সেখানে ডাকেন ওই ছাত্রী। 

ওই ছাত্রীর বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গেলে সঙ্গে থাকা ব্লেড বের করে তাদেরকেও হুমকি দেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কয়েকজন সদস্য ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি শেখ আদনান ফাহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের দু'জনকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগকর্মী আরেফিন বলেন, ‘‘ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। গত কয়েকদিন ধরে আমাদের ঝামেলা চলছিল। সে আমার সঙ্গে কথা বলছিল না। কারণ জানার জন্য ওকে ডেকেছিলাম। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে সে আমাকে চড়-থাপ্পড় দেয়। আমিও সেসময় দুয়েকটা চড় দিয়েছি। খবর পেয়ে তার বন্ধুরাও আমাকে মারতে গিয়েছিল।’’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত ছাত্রও মুচলেকা দিয়েছে। তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সেই জায়গা থেকে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করলে ভালো। অন্যথায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’’