• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৯ সন্ধ্যা

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, ‘পুলিশের চাপে’ আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলা

  • প্রকাশিত ০৯:১৯ রাত ডিসেম্বর ১০, ২০১৯
যৌন হেনস্থা
প্রতীকী ছবি

ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে শরীফাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। গলায়ও আঙুলের ছাপ রয়েছে।

সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্রী শরীফা আক্তারের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে সে ‘আত্মহত্যা’ করেছে বলে প্রচার করা হলেও মেডিকেল রিপোর্ট বলছে, আত্মহত্যা নয় ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল শরীফাকে। 

মরদেহের ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসক।

শরীফার মৃত্যুর পর তার বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় করা মামলায় তার বাবা মো. মজিবুর রহমান মেয়েকে “আত্মহত্যায় প্ররোচণা দেওয়া হয়” বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেশটিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তরের আবেদন করেছেন তিনি।

তার অভিযোগ, পুলিশ ভুল বুঝিয়ে তাকে দিয়ে আত্মহত্যা প্ররোচণার মামলা করিয়েছে। দু'টি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করে উল্টো বাদীকে হয়রানি করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পুলিশ।

প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে শরীফা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কলেজ পাড়ার একটি বাসা ভাড়া থেকে পড়াশোনা করতেন। প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করতেন একই এলাকার সোহেল মিয়া ওরফে হুসাইন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সদর থানা পুলিশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় শরীফার মরদেহ উদ্ধার করে। গত ১২ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় বাদী হয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে একটি মামলা করেন শরীফার বাবা মজিবুর।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রায়ই শরীফাকে উত্যক্ত করতো সোহেল। মাঝে দেশের বাইরে চলে গেলেও মুঠোফোনে তাকে বিরক্ত করতো সোহেল। এরইমধ্যে বিজয়নগর উপজেলায় বোনের বাড়িতে চলে যান শরীফা। কিন্তু রেহাই পাননি। বিদেশ থেকে ফিরে এসেও তার পেছনে লেগে থাকত সোহেল।

মঙ্গলবার বিকেলে শরীফার বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘প্রথম থেকেই ধারণা করছিলাম শরীফাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কোনোভাবেই আমাদের অভিযোগ মানতে চাচ্ছিল না। পুলিশের চাপাচাপির কারণেই আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলা করি। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট পেয়ে পুলিশকে জানালেও তারা কর্ণপাত করেনি। আসামিকে না ধরে উল্টো আমাকে হয়রানি করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।” মেয়ের হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বলেন, ‘‘দু'টি রিপোর্টই আমার হাতে এসেছে। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে শরীফাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। গলায়ও আঙুলের ছাপ রয়েছে। তাকে যে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়টি স্পষ্ট।”

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘‘বাদীপক্ষ মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে।”