• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৮ সকাল

মোবাইলের লক খুলতেই বেরিয়ে এলো শিশু ধর্ষণের একাধিক ভিডিও

  • প্রকাশিত ০৯:২২ রাত ডিসেম্বর ১০, ২০১৯
মোবাইল
প্রতীকী ছবি। এএফপি

মিজানুরের মোবাইল তার অজ্ঞাতে লক হয়ে যায়। নিজে লক খুলতে না পেরে মোবাইলটি কুতুব নামে প্রতিবেশী যুবকের কাছে নিয়ে যান তিনি

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও মোবাইলে ভিডিও ধারণের অভিযোগে মিজানুর রহমান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকা থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ কবির ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের বাড়ি সোনাহাট ইউনিয়নের বানুরকুটি গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবনে মিজানুর বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক।

এলাকাবাসী ও শিশুটির চাচা (মামলার স্বাক্ষী) সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সোনাহাট স্থল বন্দর এলাকায় মুদি ব্যবসা করেন। এক মাস আগে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী তার দোকানের কাছে গেলে মিজানুর কৌশলে তাকে দোকানের ভেতর নিয়ে গলায় চাকু ধরে ধর্ষণ ও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না জানাতে বলেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও দেখিয়ে মিজানুর ওই শিক্ষার্থীকে আরও কয়েকবার ধর্ষণ করেন। এরইমধ্যে মিজানুরের মোবাইল তার অজ্ঞাতে লক হয়ে যায়। নিজে লক খুলতে না পেরে মোবাইলটি কুতুব নামে প্রতিবেশী যুবকের কাছে নিয়ে যান তিনি। কুতুব মোবাইল মেকানিকের কাছে গিয়ে লক খোলার পর ওই ফোনে মিজানুরের ধর্ষণের একাধিক ভিডিও দেখতে পান। বিষয়টি মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে জানান কুতুব। শিশুটির বাবা শিশুটিকে ডেকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ওই শিশু। এ ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। পরে শিশুটির বাবা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ অভিযুক্ত মিজানুরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর ধর্ষণের সত্যতা স্বীকার করেছে। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত মিজানুরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন।

মোবাইলে ভিডিও ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। সত্যতা পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পৃথক আইনেও মামলা দায়ের হতে পারে।”