• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

কুষ্টিয়ায় অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রীর 'আত্মহত্যা'

  • প্রকাশিত ০৪:৪৩ বিকেল ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
নূপুর খাতুন
নিহত নূপুর খাতুন। সংগৃহীত

চিরকুটে লেখা ছিল, 'এভাবে মরে গেলে তো কোথায় যেন পাঠায় লাশ কাটার জন্য। কিন্তু আমার যে ওটাতে খুব ভয় লাগে। আমাকে ওখানে পাঠিও না'

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় অধ্যক্ষের কক্ষে বিষপান করে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার ইবি থানার হরিনারায়ণপুর দোয়ারকা দাস মহিলা কলেজে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত নূপুর খাতুন (১৭) ওই কলেজের ছাত্রী। সে হরিনারায়ণপুর গ্রামের শাহী মসজিদ পাড়া এলাকার বাবুল হোসেন বিশ্বাসের মেয়ে। নূপুর এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষায় চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয় বলে জানা গেছে। 

হরিনারায়ণপুর দোয়ারকাদাস আগরওয়ালা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর হরিনারায়ণপুর দোয়ারকা দাস মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেয় নূপুর। কয়েকদিন আগে পরীক্ষার ফল দিলে চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয় সে। বিষয়টি নূপুর তার পরিবারকে জানায়নি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে নূপুরের মা লাবনী খাতুন তাকে সঙ্গে নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ কাছে পরীক্ষার ফল জানতে যান। সেসময় অধ্যক্ষর কক্ষেই বিষপান করে সে। পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

ইবি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা মেয়েটির বাসা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছি। চিরকুটে লেখা ছিল, “আব্বু আম্মু আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি কখনো চাই না আমার জন্য তোমরা কষ্ট পাও। আমি ভালোভাবে লেখাপড়া করতে চেয়েছিলাম। অনেক স্বপ্ন ছিল আমার। আমি জানি আমাকে নিয়ে তোমাদের অনেক স্বপ্ন। আমি যে তোমাদের একমাত্র মেয়ে। আমি পৃথিবী থেকে চলে গেলাম। আমাকে ক্ষমা কোরো। আমার জন্য একটুও কষ্ট পাবে না। আমি তো আর ফিরে আসবো না। আমি চাই আমার মরাটা যেন স্বাভাবিকভাবে মাটি দেওয়া হয়। আত্মহত্যা করলে তো পুলিশ আসে। তারা কী সব করে। আমার যেন ওইসব না করা হয়। এভাবে মরে গেলে তো কোথায় যেন পাঠায় লাশ কাটার জন্য। কিন্তু আমার যে ওটাতে খুব ভয় লাগে। আমাকে ওখানে পাঠিও না। ভয় লাগে। আমাকে স্বাভাবিকভাবে মাটি দিও। পুলিশ যেন অন্য সবার মতো আমার লাশকে কষ্ট না দেয়। স্পর্শ না করে। আমায় ভালোভাবে মাটির দিও।”

এই ঘটনায় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।