• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

ছানাগুলোকে নিয়ে গেলো মা মেছোবাঘ

  • প্রকাশিত ০৬:৩৯ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
মেছোবাঘ-মৌলভীবাজার
মৎস্য খামারের ঝোপে মেছোবাঘের ৫টি ছানা। ঢাকা ট্রিবিউন

ঝোপ থেকে হঠাৎ একটি মেছোবাঘ লাফিয়ে পালিয়ে যায়

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার রাঙাউটি গ্রামে একটি মাছের খামারের পাড়ের ঝোঁপে রেখে যাওয়া মেছোবাঘের ৫টি ছানাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গেছে মা মেছোবাঘ।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে ছানাগুলো মাছের খামারের পাড়ের ঝোঁপে আর পাওয়া যায়নি। খামারের মালিক ইকবাল হোসেনের ধারণা, মা মেছোবাঘই ছানাগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গেছে।

এর আগে বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার রাঙাউটি গ্রামে সাংবাদকর্মী ইকবাল হোসেন স্বপনের বসত বাড়ির কাছে তার মাছের খামার পাড়ের ঝোঁপে ছানাগুলোকে পাওয়া যায়। ছানাগুলোর চোখ তখনও ফোটেনি। ধারণা করা হচ্ছিল, দুই-একদিন আগে ছানাগুলোর জন্ম হয়েছে।


আরও পড়ুন - রাস্তার পাশে পড়ে ছিল বাঘডাশটির মৃতদেহ


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকবাল হোসেনের খামারের পাড়ে অনেক ঝোপঝাড় রয়েছে। বুধবার দুপুরে ইকবাল হোসেনর রাখাল গরু নিয়ে মাছের খামারের পশ্চিম পাড়ে গেলে গরুগুলো হাক-ডাক, দৌড়াদৌড়ি ও অস্বাভাবিক আচরণ করে। এ সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখ-পাখালিও চিৎকার শুরু করে। এ ঘটনায় ইকবাল হোসেন স্বপনের সন্দেহ হলে তিনি ঝোপের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় ঝোপ থেকে হঠাৎ একটি মেছোবাঘ লাফিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই স্থানে গিয়ে তিনি ৫টি মেছোবাঘের ছানা দেখতে পান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ছানাগুলো দেখতে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমায়।

ইকবাল হোসেন বলেন, “ছানাগুলোকে দেখে খুব মায়া হয়। এগুলোর চোখ এখনও ফোটেনি। ছানাগুলোর যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য আমরা সবসময় নজর রেখেছিলাম। তবে রাত ১০টার দিকে খামারের পাড়ে গিয়ে ছানাগুলোকে আর পাওয়া যায়নি। আমার ধারণা, মা মেছোবাঘই ছানাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গেছে।”


আরও পড়ুন - আড্ডা ফেলে আহত পেঁচাটিকে বাঁচালেন তারা


এ বিষয়ে বনবিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, “মা মেছোবাঘ ছানাগুলো নিয়ে যাওয়ায় বেশ ভালোই হয়েছে। কারণ ছানাগুলো এখনও ছোট, চোখও ফুটেনি। আর মা ছাড়া ছানাগুলো ধরে এনে বনাঞ্চলে অবমুক্ত করলে হয়তো মারাই যেতো।”

মেছো বাঘ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এটা মূলত একধরনের বিড়াল (Fishing Cat) যাকে মেছো বাঘ বলা হয়। বাংলাদেশের সর্বত্রই এই প্রাণীটির বিচরণ রয়েছে। তবে জলাভূমি রয়েছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, ইঁদুর, পাখি ইত্যাদি খায়। তবে কখনো কখনো মুরগিও ধরতে পারে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “২০০৮ সালে মেছোবাঘকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছে আইইউসিএন। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই প্রাণীটিকে হত্যা বা কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”


আরও পড়ুন - বাংলাদেশে ‘বিলুপ্তপ্রায়’ নেকড়ের সন্ধান, অতঃপর হত্যা