• বুধবার, এপ্রিল ০১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

জাবিতে হল নির্মাণ কাজে অর্থ লোপাটের অভিযোগে বিক্ষোভ

  • প্রকাশিত ১০:০৪ রাত ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
জাবি
আবাসিক হলের নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের অভিযোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ঢাকা ট্রিবিউন

‘ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজে অনিয়ম আর অর্থ লোপাটের সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এতে স্পষ্ট হয় যে তিনি একজন দুর্নীতিবাজ। আর একজন দুর্নীতিবাজ উপাচার্য কোনোভাবেই উপাচার্য পদে থাকতে পারেন না’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবাসিক হলের নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর” ব্যানারে একটি মিছিল বের করে আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে এর আগে আমরা অর্থ কেলেঙ্কারির প্রমাণ পেয়েছি। সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত নতুন করে অর্থ লোপাটের দুর্নীতির প্রমাণও পেয়েছি। ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজে অনিয়ম আর অর্থ লোপাটের সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এতে স্পষ্ট হয় যে তিনি একজন দুর্নীতিবাজ। আর একজন দুর্নীতিবাজ উপাচার্য কোনোভাবেই উপাচার্য পদে থাকতে পারেন না।”

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা আন্দোলন করছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে জীবন সংগ্রামে তারা জয়ী। তারা সারাদেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে চেতনা উজ্জীবিত করার জায়গা।”

উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “যতখন পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর দুর্নীতিমুক্ত না হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। শীতের ছুটি শেষ হলেও আন্দোলন চলমান থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি ব্যর্থ। আমাদের দাবি আপনার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা আপনি তদন্ত করুন, নিজেকে প্রমাণ করুন নতুবা শাস্তি মেনে নিন। আপনি নিজেও মুক্ত হন আর জাহাঙ্গীরনগরকেও মুক্ত করুন। যদি আপনি জোর করে নিজের গদিকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চান তাহলে আমরা আপনাকে অপসারণ করবো। আপনি থাকতে পারবেন না।”

প্রসঙ্গত, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কতৃক ১৪৪৫ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ছয়টি নতুন আবাসিক হলের নির্মাণ কাজ শুরুর একেবারে প্রথম দিকে বরাদ্দকৃত টাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে এক কোটিসহ মোট দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।