• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

২০০ টাকা মজুরিতে নূরের অধীনে চাকরি করতেন এনামুর

  • প্রকাশিত ০৮:১৩ রাত ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
ডা. এনামুর রহমান-আসাদুজ্জামান নূর
বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের কার্যালয়ে আসাদুজ্জামান নূর। সংগৃহীত

'আমার কাজ ছিল গোল্ড ফ্লেক সিগারেটের নতুন তিনটা মোড়কের মধ্যে কোনটা বেশি পছন্দের, তা নিয়ে জরিপ চালানো'

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের প্রতিষ্ঠান ইস্ট এশিয়াটিক অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডে দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে চাকরি করতেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) আসাদুজ্জামান নূর প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেলে সে সময়ের কয়েকটি মুহুর্তের ছবি শেয়ার করে ডা. এনামুর রহমান তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার আসাদুজ্জামান নূরকে নিজের দফতরে দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। তাকে ঢুকতে দেখে এগিয়ে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেন ডা. এনামুর। এ সময় আসাদুজ্জামান নূর তাকে বুকে টেনে নেন।

এক পর্যায়ে নিজেদের স্মৃতিকথায় হারিয়ে যান দু'জন। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এই মুহুর্তের কিছু ছবি শেয়ার করে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, "তখন আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র। বাবা নেই। মা, চার ভাই, তিন বোন। সন্তানদের মধ্যে আমি সবার বড়। টানাটানির সংসার। তার ওপর মেডিকেলের বইপত্র কেনা। অনেক খরচ। শেষমেষ বাড়তি রোজগারের আশায় শিক্ষার্থী অবস্থায় কাজ নিলাম একটা মার্কেট রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে। ইস্ট এশিয়াটিক অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেড।"


তিনি আরও লেখেন, "চট্টগ্রাম শহরে দোকানে দোকানে ঘুরি। গোল্ড ফ্লেক সিগারেটের নতুন তিনটা মোড়কের মধ্যে কোনটা বেশি পছন্দের, তা নিয়ে জরিপ করি। প্রতিদিনের মজুরি মাত্র ২’শ টাকা। আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে অল্প কিছুদিনের মাথায় মজুরি বেড়ে দাঁড়ালো দিন প্রতি ৪’শ টাকা। জীবনের প্রথম উপার্জন। বেশ চলে যেতো। সংসার চালানো থেকে ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচ-মোটামুটি চলনসই পর্যায়ে নিয়ে এলাম নিজের পরিবারকে।"

ফেসবুক পোস্টটির শেষাংশে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী লেখেন, "সেসময় নূর ভাই ছিলেন ওই কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এই কথা এজন্য বলছি যে, আজ (বৃহস্পতিবার) অপরাহ্ণে মন্ত্রণালয়ে আমার অফিস কক্ষে এসেছিলেন শ্রদ্ধেয় নূর ভাই। আসাদুজ্জামান নূর। জনপ্রিয় অভিনেতা, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং নীলফামারী-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য। প্রথম দর্শনেই পা ছুঁয়ে সালাম করতেই আমাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন তিনি। বললেন, এনাম তুমি যেভাবে অতীতের কথা মনে করো, এই সময় এমনটা কেউ করে না! সবাই অতীত ভুলে যায়। আচ্ছা, আমি কেন ভুলবো? আমরা অতীতটাই তো আমার অহংকার আর গৌরবের। তাই না!"