• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

'এমন পোড়া ক্ষত ৪০ বছরের ক্যারিয়ারে দেখিনি'

  • প্রকাশিত ১০:১০ রাত ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
বার্ন ইউনিট_ঢামেক
বৃহস্পতিবার আগুনে দগ্ধ চিকিৎসাধীন স্বজনকে দেখে বেরিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক নারী। রাজিব ধর/ঢাকা ট্রিবিউন

কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুনে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা দগ্ধদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ডা. সামন্ত লাল সেন

কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দগ্ধদের মতো এমন পোড়া ক্ষত ৪০ বছরের ক্যারিয়ারে কখনও দেখেননি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, "আমার ৪০ বছরের ডাক্তারি জীবনে এমন পোড়া ক্ষত কখনও দেখিনি। অনেক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা মোকাবেলা করেছি। কিন্তু এমনটা কখনও দেখিনি।"

"একটু আগে একজন রোগী মারা গেল। কিন্তু আগুনে পুড়ে তার মুখ এতোটাই বিকৃত হয়ে গেছে যে তার স্ত্রী সনাক্ত করতে পারছিলেন না। পরে নিহতের হাতের কাটা দাগ দেখে তাকে সনাক্ত করা হয়।", যোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাজধানীর কেরানীগঞ্জের একটি প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুনে ১ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়াও ৩০ জন গুরুতর আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ১৮ জনের মধ্যে ১০ জনকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, "হাসপাতালে থাকা কাউকেই তাদের মুখ দেখে সনাক্ত করা যাচ্ছে না। চিকিৎসাধীন অধিকাংশের শরীরের ৬০% থেকে ৭০% দগ্ধ হয়েছে। এমনকি তাদের শ্বাসনালীও পুড়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে তাদের সুস্থ হয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।"  

ডা. সেন আরও বলেন, "আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তার নাম আব্দুর রাজ্জাক। আগুনে তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছে।"

"সাধারণত শতভাগ পুড়ে যাওয়া রোগীদের বাঁচানো যায় না। তা সে পৃথিবীর যতোবড় হাসপাতালি হোক না কেন। আমরা সর্বোচ্চ যেটা করতে পারি সেটা হলো, বাঁচানোর চেষ্টা করে যাওয়া", যোগ করেন তিনি। 

তবে, আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা তুলনামূলক ভালো বলেও জানান বার্ন ইউনিটের প্রধান। তাদের শরীরের ১০% থেকে ২০% দগ্ধ হয়েছে। 

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর ওই কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।