• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

ঢাকা থেকে রিকশা সরানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

  • প্রকাশিত ১১:২৩ সকাল ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
রিকশা
রিকশার ফাইল ছবি মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন

‘যথাযথ পরিকল্পনা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সব প্রধান সড়ক থেকে রিকশা অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে’

রাজধানী ঢাকায় যানচলাচলের গতি ধীর করার জন্য মূলত রিকশাকে দোষারোপ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি বিস্তৃত পরিকল্পনার অভাবে রাজধানী থেকে তিনচাকার এই যানটি অপসারণ করতে পারছে না, এমনটি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক, নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও ইকবাল হাবিব বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক পরিকল্পিত উপায়ে গুলশান, বনানী ও বারিধারার মূল সড়কগুলো রিকশামুক্ত করার যে সফল উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন তা সরকার অনুসরণ করতে পারে।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ১৯৮২ সালে ৭৯ হাজার ৫৫৪টি রিকশার লাইসেন্স দেয়। তারপর থেকে নগর কর্তৃপক্ষ সেগুলো নবায়ন করেছে কিন্তু নতুন করে আর লাইসেন্স দেয়নি। কিন্তু নজরদারির অভাব ও আইনের দুর্বল প্রয়োগের ফলে অননুমোদিত রিকশার সংখ্যা দিন দিন ব্যাপকহারে বাড়ছে।

দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ১১ লাখ রিকশা রয়েছে।

অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, “যথাযথ পরিকল্পনা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সব প্রধান সড়ক থেকে রিকশা অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে। রিকশা শুধু মোটরযানের গতিই কমিয়ে দিচ্ছে না, সেই সাথে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।”

তিনি বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু করে পাবলিক বাসের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। সরকার প্রথমে বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু এবং তারপর ধাপে ধাপে প্রধান সড়কগুলো থেকে রিকশা অপসারণ করতে পারে।”

এই পরিবহন বিশেষজ্ঞ বলেন, “রিকশা অপসারণে যখনই কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় তখনই ক্ষমতাসীন দলের মদদ থাকা সংগঠনগুলো বাধা সৃষ্টি করে। তারাই রিকশা সরানোর উদ্যোগ ব্যর্থ করে দিতে আন্দোলনের নামে সমস্যা সৃষ্টি করে।”

ইকবাল হাবিব বলেন, “২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে হামলার পর তৎকালীন ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হক গুলশান, বনানী ও বারিধারার প্রধান সড়কগুলো থেকে রিকশা অপসারণের উদ্যোগ নেন। তিনি গণপরিবহন সংকট সমাধানে “ঢাকা চাকা” ও পরে প্রধান সড়কগুলো রিকশামুক্ত রাখতে পৃথক এলাকা ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি প্রতিটি এলাকার ভেতরের সড়কের জন্য একক রঙের নির্দিষ্ট সংখ্যক বৈধ রিকশা ঠিক করে দেন। যারফলে কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই প্রধান সড়কগুলো থেকে এই তিনচাকার যান সরে যায়।”

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, “নগরীর সড়ক থেকে ধাপে ধাপে অবৈধ রিকশা সরানো হবে। বিশেষ করে স্কুলগামীদের জন্য বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা না করে রিকশা দূর করা এক বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি বলেন, “ডিএনসিসি’র অধীনে ২৭ হাজার ৮৭২টি বৈধ রিকশা রয়েছে। ডিএনসিসি’তে চলা অবৈধ রিকশার পরিমাণ নিয়ে যদিও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, তবে সংখ্যাটি ৫ লাখের কম নয়।”