• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

আসামে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গাড়িবহরে হামলা, ঢাকার প্রতিবাদ

  • প্রকাশিত ০৩:৩২ বিকেল ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
আসাম
ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাসের বিরুদ্ধে আসামরাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে রয়টার্স

ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলিকে ডেকে আসামে বাংলাদেশের হাইকমিশন কর্মকর্তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে

ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাসের বিরুদ্ধে আসামরাজ্যে চলমান সহিংসতা ও কারফিউয়ের পটভূমিতে গুয়াহাটিতে বাংলাদেশ হাই-কমিশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এখবর জানিয়েছে বিবিসি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুয়াহাটিতে মিছিল ও বিক্ষুব্ধ লোকজনের মধ্য থেকে কিছু লোক মিশনের দু’টো সাইনপোস্ট ভাংচুর করে যা চ্যান্সেরি প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ৩০ গজ দূরত্বে অবস্থিত।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে যে, ভারতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনারকে বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দর থেকে শহরে আসার সময় নিরাপত্তা-বহরে হামলা চালায় নাগরিকত্ব বিল বিরোধী উত্তেজিত জনতা।

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলিকে ডেকে বাংলাদেশের হাইকমিশন কর্মকর্তার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় এবং হাইকমিশন প্রাঙ্গণে সাইনপোস্ট ভাংচুরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মীদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনুরোধ করেন।

রিভা গাঙ্গুলি নিশ্চয়তা দেন যে, ঘটনার পরপরই গুয়াহাটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের চ্যান্সেরি ও বাসভবনে এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের জন্য এই ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ভারতের যথাযথ কর্তৃপক্ষ সহকারী হাইকমিশন এলাকা, কমিশনের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় এরইমধ্যে ব্যবস্থা জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে। গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেখা হচ্ছে “বিচ্ছিন্ন ঘটনা” হিসেবে। আর বাংলাদেশ ও ভারত দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এর কোনও প্রভাব পড়বে না বলে বাংলাদেশ মনে করে।

ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার নাগরিকত্ব সংশোধন আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই আসামের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। রাতভর বিক্ষোভের পর রাজ্যটিতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে এপর্যন্ত দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু লোক।

আসামে যারা এই বিলের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাদের বক্তব্য, এই বিলের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসামে আরও বেশিসংখ্যক বাঙালি হিন্দুর আসার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। আসামে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অহমীয়া জনগোষ্ঠীর সাথে বাংলাভাষী জনগণের বিরোধ চলছে।