• শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২ রাত

সান্ধ্যকোর্সে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

  • প্রকাশিত ০৯:৫৫ সকাল ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯
এমবিএ-সান্ধ্য কোর্স
ছবি: রাজিব ধর/ঢাকা ট্রিবিউন

‘তবে বর্তমানে এ কোর্সগুলো এক শ্রেণির শিক্ষকদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও যথাযথভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করার কারণে নিম্নমানের শিক্ষার্থী বের হচ্ছেন’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা মেনে দেশের বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সান্ধ্যকোর্সে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে।

ইতোমধ্যে সান্ধ্যকোর্সগুলোতে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয় দু'টির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা এ কোর্সগুলোতে নতুন কোনো শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাবে না, তবে যারা এরই মধ্যে ভর্তি হয়ে গেছেন তারা কোর্সগুলো শেষ করতে পারবেন।

সেইসঙ্গে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও এসব কোর্স বন্ধ করতে যাচ্ছে।  

২০০১ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে স্নাতকোত্তর সান্ধ্যকোর্সের অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী। এরপর গত ১৮ বছরে সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোর জনপ্রিয়তা ব্যাপকহারে বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সান্ধ্যকোর্সগুলো চালুর পেছনে মূল কারণ ছিল পেশাগতদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া। যাতে তারা কর্মস্থলের জন্য ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারেন।

‘‘তবে বর্তমানে এ কোর্সগুলো এক শ্রেণির শিক্ষকদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও যথাযথভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করার কারণে নিম্নমানের শিক্ষার্থী বের হচ্ছেন,’’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো কোর্সে পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হচ্ছে, যা মেনে নেওয়া যায় না। ‘‘আমি আশা করি, ইউজিসির নির্দেশনা মেনে এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’’

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের অধীনে মোট ৮০টি সান্ধ্যকোর্স রয়েছে। এর মধ্যে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (আইবিএ) ১৮টি, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের নয়টি বিভাগের অধীনে ১৬টি এবং সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে ছয়টি সান্ধ্যকোর্স রয়েছে।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান জানান, এ বছরের মে মাসে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীকে প্রধান করে সান্ধ্যকোর্সের বিষয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

‘‘তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন এবং শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেবেন। কমিটির দেয়া সুপারিশের আলোকে আমরা পদক্ষেপ নেব,’’ বলেন তিনি।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনের আগে ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আমাদের অবশ্যই ইউজিসির নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।’’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ২০০৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইনস্টিটিউটে সান্ধ্যকোর্স চালু করা হয়। এখন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কমপক্ষে ১৬টি বিভাগ এবং চারটি ইনস্টিটিউটে এ ধরনের কোর্স করানো হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি বিভাগে সান্ধ্যকোর্স রয়েছে।

উল্লেখ্য, সান্ধ্যকোর্সগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করছে উল্লেখ করে বুধবার ইউজিসি এ ধরনের কোর্সগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করার আদেশ দিয়ে ইউজিসি ১৩ দফা নির্দেশনা সম্বলিত একটি চিঠি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠায়।

বাণিজ্যিক কোর্সগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছে এবং এতে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মন্তব্যের মাত্র দু'দিন পরে এ নির্দেশনা দেয় ইউজিসি।

৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘এসব বাণিজ্যিক কোর্সের মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে। এসব ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষার্থীরা কতটুকু লাভবান হচ্ছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন থাকলেও এক শ্রেণির শিক্ষক কিন্তু ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। তারা নিয়মিত নগদ সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছেন।’’