• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৪ দুপুর

বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে মুখে কাপড় বেঁধে হামলা

  • প্রকাশিত ০১:৫৩ দুপুর ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯
ব্রাহ্মণবাড়িয়া হামলা
সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা মঞ্চে ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা ঢাকা ট্রিবিউন

সভার চেয়ার, টেবিল ও মঞ্চে ভাংচুরের পাশাপাশি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি

বিজয় দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সভার চেয়ার, টেবিল ও মঞ্চে ভাংচুরের পাশাপাশি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। 

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সংবর্ধনা নিতে আসা মুক্তিযোদ্ধারা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করে জেলা পরিষদ। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিকুল আলম এমএসসি। সভাপতি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওয়াব আসলাম হাবীব। পূর্ব নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরুর কথা ছিল বেলা ১১টায়। কিন্তু সকাল পৌনে ৯টার দিকে মুখে কাপড় বাঁধা ৮-১০ যুবক সভাস্থলে হঠাৎ হামলা করে।

এই হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

নাসিরনগর থেকে সংবর্ধনা নিতে আসা মুক্তিযোদ্ধা যুগেশ চন্দ্র দাস বলেন, সংবর্ধনা নেওয়ার জন্য জেলা পরিষদ থেকে আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যারা এই সংবর্ধনায় মঞ্চে হামলা চালিয়েছে তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হতে পারেনা। তারা অপশক্তি। জেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আসলাম হাবিব বলেন, এটা সন্ত্রাসী হামলা। তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করেছে। এগুলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিকুল আলম এমএসসি এই ঘটনার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষকে দায়ী করে বলেন, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হতে পারেনা। এটি জেলা পরিষদের আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠান। ঘটনায় জেলা পরিষদ এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলমগীর হোসেন বলেন, হামলার ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।