• বুধবার, এপ্রিল ০৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৭ রাত

বিজয় দিবসে আওয়ামী লীগ নেতার হাতে মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছিত

  • প্রকাশিত ০৬:৫৬ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯
বগুড়া

মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ছবি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয়। যুদ্ধের সময় তিনি রাখাল ছিলেন

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিউল আলম ছবির হাতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নন্দীগ্রাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নন্দীগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শারমিন আকতার প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরুর ১৫ মিনিট আগে শফিউল আলম ছবি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আসেন। তিনি সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি হাবিবুরের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও লাঞ্ছিত করে চলে যান। এতে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম ছবি বলেন, সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন (জোনাব আলী), সাবেক পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুজ্জামানসহ অন্তত ২৬ জনকে সৈনিক দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত করেন। এদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ২-৩ হাজার টাকা দিয়ে অবশিষ্ট হাবিবুর রহমান পকেটে ভরেন। আর এ টাকা দিয়ে জমি কেনাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করছেন। এছাড়া নন্দীগ্রাম উপজেলায় তিনিসহ অন্তত ৩৬ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত করতে বিরোধিতা করেছেন হাবিবুর। তালিকায় সাবেক কমান্ডারদের নাম নিচে রেখেছেন। এসব কারণে তার কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তবে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়নি।

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান জানান, তিনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। কোনো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করেননি। আওয়ামী লীগ নেতা ছবি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয়। যুদ্ধের সময় তিনি রাখাল ছিলেন। তাই তাকে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, কী কারণে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে তা জানেন না। তবে তার ধারণা, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দায়িত্বে থাকায় প্রতিহিংসা হিসেবে এ কাজ করে থাকতে পারেন। তাকে লাঞ্ছিত করায় শিগগিরই মুক্তিযোদ্ধারা কর্মসূচি দেবেন।

নন্দীগ্রামের ইউএনও ও পদাধিকার বলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শারমিন আকতার জানান, অনুষ্ঠান শুরুর আগেই দু’জনের মধ্যে কিছু হয়। বিষয়টি পরে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।