• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪২ রাত

গাজীপুরে ফ্যান কারখানায় আগুনের ঘটনায় মামলা

  • প্রকাশিত ১০:১৭ রাত ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯
লাক্সারি স্মার্ট এনার্জি সেভিং ফ্যান কারখানা
গাজীপুর সদর উপজেলার লাক্সারি স্মার্ট এনার্জি সেভিং ফ্যান কারখানায় ১৫ ডিসেম্বর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঢাকা ট্রিবিউন

তৃতীয় তলায় দরজার কাছে রাখা দাহ্য পদার্থ থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে

গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ীয়া ইউনিয়নের কেশোরিতা এলাকার লাক্সারি স্মার্ট এনার্জি সেভিং ফ্যান লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।  

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ওই কারখানার নিহত শ্রমিক রাশেদুল ইসলামের বাবা ও শ্রীপুর উপজেলার মারতা গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন মামলাটি করেন। মামলায় আসামি হিসেবে কারখানার পাঁচ মালিক ও এক ব্যবস্থাপকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

কারখানার ছিলো না অনুমোদন 

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটা ওই কারখানাটির কোনো অনুমোদন ছিল না। এমনকি সেটির কোনো ফায়ার লাইসেন্স এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাও ছিল না। সোমবার বিকেলে কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে এসব তথ্য দেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। 

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয় তথা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়া কারখানাটি চলছিল। আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে দোতলার উপরে টিনের শেড নির্মাণ করে ফ্যান তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়। কারখানা স্থাপনের অনুমতি নিতে আবেদনও করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ধরে। পরে তৃতীয় তলায় দরজার কাছে রাখা দাহ্য পদার্থ থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় তলা থেকে নিচে নামার জন্য সিঁড়ি ছিল একটি। ফলে সেখানে থাকা ১৯ জনের মধ্যে নয়জন ঝুঁকি নিয়ে নিচে নামতে সক্ষম হলেও বিকল্প পথ না থাকায় ১০ জন শ্রমিক নামতে না পেরে নিহত হন। 

ফরিদ আহমেদ আরও বলেন, শ্রম আদালতে নিয়মানুয়ায়ী কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। কারখানা মালিকের কাছ থেকে আইন অনুযায়ী নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের আবেদন করতে হবে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মামুন অর রশিদ জানান, কারখানাটির কোনো ফায়ার লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না।

এদিকে লাক্সারি ফ্যান কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন ঢালী বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তারা যে উৎসব বোনাস ও বেতন পেতেন তাদের পোষ্যদের আজীবন তার সুবিধা দেওয়া হবে। 

তবে ফায়ার লাইসেন্স এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক সাজ্জাদ হোসেন জানান, তাদের পক্ষ থেকেও তিন সদস্যবিশষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।