• বুধবার, ডিসেম্বর ০২, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৬ রাত

এবার রাজাকারের তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর ‘হক চাচার’ নাম!

  • প্রকাশিত ০৪:১৩ বিকেল ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯
মুজিবুল হক বরগুনা
বরগুনার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মুজিবুল হক সৌজন্য

মজিবুল হকের স্বজন ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন বরগুনা মহকুমা মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি

সম্প্রতি একাত্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতা বিরোধীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তালিকায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীন পাথরঘাটা থানার আহ্বায়ক মো. মজিবুল হকের নামও। আজীবন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর, ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও শ্রদ্ধার পাত্র।

তাই মন্ত্রণালয় প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় তার নাম আসায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বরগুনার সর্বস্তরের মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বরগুনা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

মজিবুল হকের স্বজন ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন বরগুনা মহকুমা মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি, ছিলেন পাথরঘাটা থানা কমিটির আহ্বায়ক।


আরও পড়ুন- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রাজাকারের তালিকায়


রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আমৃত্যু তিনি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদস্য। ১৯৭০ সালে পাথরঘাটা থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি নির্বাচিত হন মুজিবুল হক। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন এই দায়িত্বে।

এছাড়া, ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাথরঘাটা-বামনা সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আ. রশিদ বলেন, “মজিবুল হক একজন সৎ মানুষ ছিলেন। তিনি পাথরঘাটা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। কী কারণে তার নাম রাজাকারের তালিকায় এসেছে আমি বলতে পারব না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দেওয়া রাজাকারের তালিকায় তার নাম থাকার প্রশ্নই আসে না।”


আরও পড়ুন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: রাজাকারের তালিকা আরও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন ছিল


স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল বলেন, “মজিবুল হককে আমরা একজন সজ্জন মানুষ হিসেবেই চিনতাম। তার নাম রাজাকারের তালিকায় আসাটা দুঃখজনক। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।”

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মুজিবুল হকের মেজ ছেলে অ্যাড. রেজাউল হক শাহিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাবা একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। তিনি পাথরঘাটা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক, এমনকি বর্তমান তৎকালীন বরগুনা মহকুমা সংগ্রাম পরিষদেরও সদস্য ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় পাথরঘাটা থানা ত্রাণ কমিটির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। কিন্তু আজ হঠাৎ করে আমার বাবা কিভাবে রাজাকার হয়ে গেলেন তা আমরা বুঝতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয় যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন ও মনগড়া। আমরা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই তালিকা প্রত্যাহারের অনুরোধ করছি।”


আরও পড়ুন- মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায়, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ


বিষয়টি নিজ উদ্যোগে খোঁজ নিয়ে দেখছেন জানিয়ে রেজাউল হক বলেন, “কেউ যদি ইচ্ছা করে আমার বাবার নাম রাজাকারের তালিকায় দিয়ে থাকে তবে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হুমায়ূন কবির বলেন, “রাজাকারের যে তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা অবগত নই। তাই এবিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য করাও ঠিক হবে না।”


আরও পড়ুন- বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তী’র বাবা-ঠাকুরমা রাজাকারের তালিকায়


মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় বরগুনা থেকে এসেছে- মাহবুব-উল-আলম খান, এসএমএম গোলাম মাওলা, মো. আবদুল আজিজ বিএসসি, মো. মতিয়ার রহমান, মো. আবদুল রশিদ, মি. এবিএম হোসেন (মানিক), কাঞ্চন আলী মল্লিক, মো. আশরাফ আলী হাজী, কাজের মীর, আবদুল জব্বার হাওলাদার, ফকর আলী, ফজলুল করীম সিকদার, আদম আলী, আবদুল মালেক মিয়া, মমিনউদ্দিন মল্লিক, আবদুল আজিজ হাওলাদার, রফিকুর সিকদার, আলম মিয়া, মো. হারুণ অর-রশিদ, মা: মান্নান মিয়া, আবদুল বারী মিয়া, মেরাজুল ইসলাম, আবদুল মজিদ মল্লিক, সেকান্দার মল্লিক, মো. শাহজাহান মিয়া, মো. আবদুল ছত্তার মিয়া(বিকম), মো. নুরুল আমিন, রশিদ জমাদ্দার, আবদুর রহমান মিয়া, হাতেম আলী হাওলাদার, মো. রফিকুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন, আবদুল খালেদ মিয়া, আলতাফ হোসেন, জামাল আহমেদ সিকদার (চানমিয়া), ফকর উদ্দিন আহমেদ, নয়ন আলী হাওলাদার, হরমুজ খা, চান সিকদার, আবদুল মজিদ, মকবুল হোসেন, মফিজ উদ্দিন, আবুল হোসেন, আবদুল মান্নান, নুর মোহাম্মাদ,  মজিবুল হক (নয়া ভাই), সৈয়দ হায়দার আলী (হাফেজ), আমির হামজা (রুস্তম খা), গোলাম কাদের (কাদু), শেখ আবদুল মালেক, মো. সালেহ আহমেদ (সালেহ), খলিলুর রহমান (মানিক) ও মো. আমজাদ আলীর নাম।

76
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail