• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৯ রাত

মারপিট করে চুল কেটে দেওয়ায় কিশোরী গৃহকর্মীর বিষপান

  • প্রকাশিত ০৫:৫৮ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯
বগুড়া নির্যাতন
বগুড়ায় গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ঢাকা ট্রিবিউন

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীকে অসহায়, এতিম উল্লেখ করে কোনো অভিভাবক না থাকায় তিনিই মামলা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী

১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী গৃহকর্মীকে মারধরের পর চুল কেটে দিয়েছিলেন গৃহকর্তা আব্দুর রাজ্জাক (৬২) ও তার স্ত্রী রোকসানা বেগম (৫৫)। এতে শিশুটি অভিমান করে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে সদর থানায় মামলাটি করেন বগুড়া শহরের সমাজসেবক আবদুল মান্নান আকন্দ। রাতেই গ্রেফতার করা হয় আবদুর রাজ্জাককে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আর বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরীকে স্থানান্তর করা হয়েছে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)।

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীকে অসহায়, এতিম উল্লেখ করে কোনো অভিভাবক না থাকায় তিনিই মামলা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।

আব্দুল মান্নান জানান, গত ৯ বছর ধরে বগুড়া শহরে ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়ার আবদুর রাজ্জাক ও রোকসানা বেগম দম্পতির বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছে ওই কিশোরী। হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পরেও আসামিরা তাকে কারণে-অকারণে অকথ্য গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে ওই কিশোরী বাড়ির ছাদ থেকে প্রতিবেশী নারীদের সঙ্গে কথা বলছিল। বিষয়টি টের পেয়ে তার ওপর চড়াও হন গৃহকর্ত্রী রোকসানা। শুরু করেন অকথ্য গালিগালাজ ও মারধর। কিছুক্ষণ পরে তার চুল কেটে দেওয়া হয়।

সহ্য করতে না পেরে ইঁদুর মারার ওষুধ (বিষ) সেবন করে ওই কিশোরী। অবস্থা বেগতিক দেখে গৃহকর্তা আবদুর রাজ্জাক সন্ধ্যার পর তাকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবদুল আজিজ মন্ডল জানান, আসামি আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর অবসরপ্রাপ্ত হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট। ৯ বছর আগে রংপুরে চাকরিরত অবস্থায় তিনি মেয়টিকে ১০০ টাকার বিনিময়ে তার ফুফুর কাছে “কিনে” আনেন। পাঁচ বছর বয়স থেকে সে ওই দম্পতির বাড়িতে আছে।

প্রতিবেশিরা জানান, মেয়েটিকে সন্তান হিসেবে লালন-পালনের জন্য আনলেও তাকে গৃহকর্মী হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন অভিযুক্তরা। প্রায়ই তাকে নির্যাতন করা হতো।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল করিম রেজা জানান, সোমবার রাতে মামলার পরপরই আবদুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। তার স্ত্রীকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।