• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৭ রাত

মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নাম উধাওয়ের শংকা বীর প্রতীকের

  • প্রকাশিত ০৭:০২ রাত ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯
বীরপ্রতীক মমিন উল্লাহ পাটওয়ারী
মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে নিজের নাম উধাওয়ের আশংকা প্রকাশ করেছেন চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক মমিন উল্লাহ পাটওয়ারী ঢাকা ট্রিবিউন

মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুর অঞ্চলে পাকিস্তানি হানাদারদের যুদ্ধজাহাজ ‘লোরাম’সহ এক ডজনেরও বেশি নৌযান মেঘনা নদীর ডাকাতিয়া পয়েন্টে ডুবিয়ে দিয়েছিল তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী

সদ্য প্রকাশিত রাজাকারদের বিতর্কিত তালিকার বিষয়ে শংকা প্রকাশ করে চাঁদপুরে অঞ্চলে যুদ্ধ করে বীরপ্রতীক খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা মমিন উল্লাহ পাটওয়ারী বলেছেন, আমার এখন ভয় হয়, না যেন কবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে নিজের নামটাই উধাও হয়ে যায়। অথবা আমি রাজাকার হয়ে যাই কিনা। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম! 

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) চাঁদপুর পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্ষোভ আর অভিমানের সুরে কথাগুলো বলছিলেন সাবেক নৌ-কমান্ডো  বীর প্রতীক মমিন উল্লাহ পাটওয়ারী।

তিনি বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলাম। যুদ্ধ শেষে বীরের মতো বাড়ি ফিরেছি। তখন ভেবেছি, একটা মানচিত্রের জন্য যুদ্ধ করতে হবে, একটা দেশ পাবো। পেয়েছিও। কিন্তু কখনও ভাবিনি এজন্য কাগজপত্র হবে। এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিল সেই পাকিস্তানিদের যারা সহায়তা করেছে, সেই রাজাকারদের সঙ্গে আমাদের মিশে যেতে হবে!”

বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জা এবং ঘৃণার বলে মন্তব্য করেন খেতাবপ্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধা।

সদ্য প্রকাশিত রাজাকারদের তালিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনোরকম যাচাই-বাছাই না করেই মন্ত্রণালয় এটি কীভাবে প্রকাশ করলো? মুক্তিযুদ্ধ আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছে। বিষয়টি কতো স্পর্শকাতর সেটা তারা ভাবলেন না? এমন ঘটনা সব মুক্তিযোদ্ধাকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। 

এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করার দাবি জানান মমিন উল্লাহ।

১৯৭১ সালে চাঁদপুর অঞ্চলে পাকিস্তানি হানাদারদের যুদ্ধজাহাজ “লোরাম”সহ এক ডজনেরও বেশি পাকিস্তানি নৌযান মেঘনা নদীর ডাকাতিয়া পয়েন্টে ডুবিয়ে দিয়েছিল মমিন উল্লাহ পাটওয়ারীর নেতৃত্বাধীন বাহিনী।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ব্যক্তির নাম আসায় সমালোচনার ঝড় ওঠে দেশব্যাপী। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার ওয়েবসাইট থেকেও সেই তালিকা সরিয়ে নেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে পুনরায় রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হবে।