• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

বয়স্ক ভাতার কার্ড জোটেনি শতবর্ষী মেহেরুন নেছার

  • প্রকাশিত ০৭:৪৩ রাত ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯
কুষ্টিয়া
মিরপুর বাজারে ভিক্ষা এসেছিলেন শতবর্ষী মেহেরুন নেছা। ঢাকা ট্রিবিউন

ভাতার কার্ডের জন্য দিনের পর দিন স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। তবুও কোনো কার্ড পাইনি

বয়সের ভারে ন্যুব্জ বৃদ্ধা মেহেরুন নেছা। হারিয়েছেন স্বাভাবিক চলাচলের শক্তি, চোখেও দেখেন না ঠিকমতো। লাঠিতে ভর দিয়ে কখনো মানুষের বাড়িতে আবার কখনো দোকানে দোকানে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন শতবর্ষী বৃদ্ধা মেহেরুন নেছা। 

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান কালিতলা হাইস্কুল এলাকার রুস্তুম মোল্লার স্ত্রী মেহেরুন নেছা। সংসারে একমাত্র ছেলে কর্মক্ষম নয়। তাই নিজের পেটের ভাত জোটাতে ভিক্ষার পথ বেছে নিয়েছেন এই বৃদ্ধা। 

গত শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় মিরপুর বাজারে ভিক্ষা করতে আসলে কথা হয় মেহেরুন নেছার সাথে। তিনি বলেন, আমার বয়স একশোর বেশি। তবে সরকারি কোনো ভাতা পাই না। ভাতার কার্ডের জন্য দিনের পর দিন স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। তবুও কোনো কার্ড পাইনি। 

তিনি আরও বলেন, সংসারে এক ছেলে রয়েছে। তবে সেও চোখে দেখে না। নিজের পেটের ভাত জোটাতে ভিক্ষা করি। এ ছাড়া ভিক্ষা করে নিজের ঔষধপত্র কিনতে হয়। 

এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বর মো. উজ্জল বলেন, “আমাদের কাছে ভাতার কার্ডের বরাদ্দ অনেক কম। অনেক সময় কার্ডের জন্য সুপারিশ করা হলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান তা দেন না। আমি ওই বৃদ্ধার ছেলের বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য সুপারিশ করেছিলাম কিন্তু সেটিও দেওয়া হয়নি।” 

স্থানীয় ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বিশ্বাস ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গত কয়েকদিন আগে ওই এলাকার খোঁজ নিয়ে একজন বৃদ্ধাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আরও যদি কেউ এমন থাকে, আমার সাথে যোগাযোগ করে তবে তার কার্ড করে দেওয়া হবে।”

মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জামশেদ আলী বলেন, “গত মিটিংয়ে এসব কার্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা ওপেন যাচাই বাছাই করে এখন থেকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” 

তিনি আরও বলেন, “বৃদ্ধা মেহেরুন নেছার খোঁজ খবর নিয়ে কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”