• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩ রাত

সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সংলাপ

  • প্রকাশিত ০৫:২২ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯
রোহিঙ্গা ক্যাম্প
টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প। সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

বিদেশি পরিচয়ে প্রথমে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) নিতে হবে। এটা আমরা বরাবরের মতো প্রত্যাখান করেছি। কারণ সেখানে গিয়ে পুনরায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার চেয়ে বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করা অনেক শ্রেয় হবে

কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সাথে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দফার সংলাপ। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এই সংলাপ শেষ হয়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তৃতীয়বারের মতো কথা বলতে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) কক্সবাজার সফরে এসেছিলেন মিয়ানমার ও আসিয়ানের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। দুইদিনের সফরে আসা প্রতিনিধিদলটি ৪৭ সদস্যের রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করেছেন। 

সংলাপ শেষে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাপরিচালক চ্যান অ্যায়ে বলেছেন, “আমরা দীর্ঘ দুইদিন ধরে সংলাপ করেছি। তারা (রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার করেননি) আমাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া দিয়েছেন। আমরা শুনেছি, বিষয়টি মিয়ানমারের ফেরত গিয়ে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরব এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।”

সংলাপে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা বলেছেন, সংলাপে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যেতে প্রতিনিধিদলটি বার বার অনুরোধ করেছেন। বিদেশি পরিচয়ে প্রথমে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) নিতে হবে। এরপর মিয়ানমার যাচাই-বাচাই করে নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। এটা আমরা বরাবরের মতো প্রত্যাখান করেছি। কারণ সেখানে গিয়ে পুনরায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার চেয়ে বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করা অনেক শ্রেয় হবে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে মিয়ানমার ও আসিয়ান প্রতিনিধিদলের প্রথম দিনের সংলাপ হয়। উক্ত সংলাপে অংশ নিয়েছেন ৪১ জন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা ও ৬ জন কমিউনিটি নারী নেত্রী অংশ নেয়।


আরও পড়ুন - ‘এনভিসি’ কার্ড নিয়ে ফিরতে রাজি নয় রোহিঙ্গারা


মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনীতিক বিভাগের পরিচালক চ্যান অ্যায়ের নেতৃত্বে ৯ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, শ্রম ও অভিবাসন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ রয়েছেন। একইভাবে ৭ সদস্যের আসিয়ান প্রতিনিধিদলে রয়েছেন আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ রয়েছেন।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন অতিরিক্ত সচিব শামশুদ্দোজা নয়ন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে একইস্থানে পুনরায় সংলাপ শুরু হয়ে ২টার দিকে শেষ হয়। মিয়ানমারের ৯ সদস্য বিশিষ্ট ও আসিয়ানের ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি দুইদিনের সফর শেষে বিকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন। 

এর আগে চলতি বছরের ২৭ জুলাই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে’র নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করেন। এ সময় আসিয়ানের প্রতিনিধিদলটিও সঙ্গে ছিলেন। সে সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের যৌথ সংলাপে অংশ নেয়। এছাড়াও ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল মিয়ানমারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ে’র নেতৃত্বে আরও একটি প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসেছিলেন। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংলাপ (ডায়ালগ) করতে দুইদিনের সফরে তৃতীয়বারের মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি কক্সবাজারে আসেন।