• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

রাষ্ট্রপতিকে টেলিনরের উকিল নোটিশ

  • প্রকাশিত ০৯:১০ রাত ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯
টেলিনর
টেলিনর। রয়টার্স

‘আমাদের রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ দিয়ে সালিশের জন্য চাপ দেবে, এটা বোধহয় কোনোভাবে আমাদের কাছে খুব সহজে গ্রহণ করার মতো অবস্থা না’

মোবাইল অপারেটর গ্রামীণ ফোন (জিপি) তাদের বকেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাথে সালিশে যাওয়ার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি আইনি সংস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) মন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সাথে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি যে এটি খুব দুঃখজনক। বাংলাদেশে ব্যবসা করবে একটি প্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ দিয়ে আরবিট্রেশনের (সালিশ) জন্য চাপ দেবে, এটা বোধহয় কোনোভাবে আমাদের কাছে খুব সহজে গ্রহণ করার মতো অবস্থা না।”

এ নোটিশের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অবহিত করা আছে। সবাই বিষয়টা জানে। আইনজ্ঞদের সাথে কথা বলা হয়েছে। এ উকিল নোটিশ নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ তারা যা চাচ্ছে তা হচ্ছে আরবিট্রেশন যেন করা হয়। কিন্তু আদালতের বাইরে আরবিট্রেশন করার সুযোগ নেই।”

“আদালত যদি হুকুম দেয় আরবিট্রেশন করার তাহলে করতে পারব। যে দেশে ব্যবসা করা হয় সে দেশের আইন-আদালত অমান্য করে দুনিয়ার কোনো জায়গায় গিয়ে অন্য বিচার পাওয়ার সম্ভবনা নেই। আমরা সঠিক পথে আছি,” যোগ করেন মন্ত্রী।

গ্রামীণ ফোন আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা এ রকম একটি ধারণা দিয়েছে যে যদি আরবিট্রেশন না হয় তাহলে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে। তবে বাংলাদেশের আদালতে হেরে গিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে কিছু একটা করা যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। দিনের শেষে অঙ্কটা তো সহজ, ব্যবসাটা তো বাংলাদেশেই করতে হবে। বাংলাদেশের আইন কানুন না মেনে আন্তর্জাতিক আদালত বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা করতে দেবে না।’

একই বিষয়ে রবি মামলা তুলে নিতে ইতোমধ্যে প্রস্তাব দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা তো মামলায় যাইনি, ওরা যদি মামলা তুলে নিয়ে আলোচনায় বসে তাহলে কোনো আপত্তি নেই। তবে মামলা চলাকালে আলোচনা করতে পারি না। কারণ সেটি আদালত অবমাননা হয়ে যাবে। তবে গ্রামীণ ফোনের সাথে আলোচনায় বসতে পারব না, যতক্ষণ না তারা আদালতের রায় মানে।”

বিটিআরসির পাওনা দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে গ্রামীণফোনকে তিন মাসের দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে গত ২৪ নভেম্বর নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বিটিআরসি ২৭টি খাতে এ টাকা দাবি করে গ্রামীণফোনকে গত ২ এপ্রিল চিঠি দেয়। কিন্তু কয়েক দফা চেষ্টা করেও সেই টাকা আদায় করতে না পেরে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিশ পাঠায় বিটিআরসি। এ নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে গ্রামীণ ফোন নিম্ন আদালতে যায় এবং তা পরে ২৮ আগস্ট খারিজ হয়। এ ঘটনায় হাইকোর্টে আপিল করে মোবাইল ফোন অপারেটরটি।