• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৭ রাত

শীতে নাকাল রাজশাহীর শ্রমজীবী-ছিন্নমূল মানুষ

  • প্রকাশিত ০১:০২ দুপুর ডিসেম্বর ২০, ২০১৯
রাজশাহী-শীত
হাড় কাঁপানো শীত নিবারণে ছিন্নমূল মানুষের নেই পর্যাপ্ত গরম কাপড়। ঢাকা ট্রিবিউন

হঠাৎ জেঁকে বসেছে শীত অথচ শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের নেই পর্যাপ্ত গরম পোশাক। তাই প্রচণ্ড দুর্ভোগ নেমে এসেছে তাদের জীবনে। আবার চলতি বছর এখনও জোটেনি কোনো ত্রাণ বা গরম কাপড় সহায়তা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজশাহীতেও বেড়েছে শীতের তীব্রতা। বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে ঠাণ্ডায় দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষেরা। সেই সাথে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বেড়েছে শীতজনিত রোগী।

রাজশাহী আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ গত দুইদিনের ব্যবধানে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রাও বেড়েছে। সকাল ৯টায় তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস, সকাল ১০টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ দশমিক শূন্য ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে চারদিক ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদও উঠেছে। কিন্তু ঠাণ্ডা বাতাস কমেনি।

তীব্র ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে জীবিকার সন্ধানে এক শ্রমিক। ঢাকা ট্রিবিউন

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে বলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলে তাকে বলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা থাকলে তাকে বলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। সে হিসাবে বলা হয়, রাজশাহীতে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে।

এদিকে হঠাৎ করে তীব্র শীত শুরু হওয়ায় নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে পড়েছে। হঠাৎ শীত জেঁকে বসেছে অথচ শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের নেই পর্যাপ্ত গরম পোশাক। তাই প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছেন তারা। আবার চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বা গরম কাপড় সহায়তা পাননি তারা।

গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট এলাকার শ্রমজীবী দেওয়ান হোসেন বলেন, সকালে ট্রেনে করে শহরে কাজের সন্ধানে আসি। আবার রাতে ফিরে যাই। ঠাণ্ডার মধ্যে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে বের না হলে খাবো কি?

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর লক্ষীপুর মোড় এলাকায় দেখা যায়, সেখানে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা পাবার চেষ্টা করছেন বেশ কয়েকজন শ্রমজীবি মানুষ। এদের মধ্যে তরিকুল ইসলাম জানান, আমি অটোরিকশা চালাই। কিন্তু শীতের বাতাসে ঠাণ্ডায় কাহিল হয়ে গেছি। তাই অন্যদের সাথে আগুন জ্বালিয়ে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছি।

আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা। ঢাকা ট্রিবিউন

এছাড়া রাজশাহী নগরীর বিপণিবিতান ও ফুটপাতগুলোতে শীতবস্ত্রের বেচাকেনা বেড়েছে। উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এইসব বিপণিবিতান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গিয়ে জানা যায়, মেডিসিন, শিশু ও চর্ম বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মেডিসিনের চারটি ইউনিটে নারী-পুরুষসহ হাসপাতালের সকল ইউনিটে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২০০ জন। এর মাঝে বৃহস্পতিবার সব ওয়ার্ড মিলে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৬ শতাধিক। বৃহস্পতিবার ৮৫ জনের বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন যাদের বেশিরভাগই ইনফ্লুয়েঞ্জা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও হাঁপানির রোগী। একই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে শিশু ওয়ার্ডের তিনটি ইউনিটে পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

নাটোর জেলার লালপুর থানার মতিউর রহমান দুই দিন আগে তার পাঁচ বছরের শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। তিনি জানান, প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় শিশুর পাতলা পায়খানা হচ্ছে। তাই দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে চলে এসেছি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রবীর মোহন বলেন, ঠাণ্ডা পরিবেশের কারণে অল্পতেই ভাইরাসজনিত রোগ ও ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হচ্ছে নানা বয়সী মানুষ ও শিশুরা। অনেকে বাইরের খাবার খাওয়ার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।