• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪ রাত

রাবি উপ-উপাচার্যের ফোনালাপ ফাঁস: বিস্তারিত জানালেন নিয়োগপ্রার্থী

  • প্রকাশিত ০৭:১৪ রাত ডিসেম্বর ২১, ২০১৯
সংবাদ সম্মেলন
শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে রাবি'র আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ করেন নিয়োগ প্রত্যাশী নুরুল ইসলাম। ঢাকা ট্রিবিউন

আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের সময় এক চাকরি প্রার্থীর স্ত্রীর কাছে ফোনে টাকা দাবি করেন উপ-উপাচার্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের সময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি মোড়ের একটি  রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম নামে এক নিয়োগ প্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ভাইভার পূর্বে রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া তার স্ত্রীর নিকট টাকা দাবি করেন। বিষয়টি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানকে জানানোর পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এছাড়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ পাওয়া নূর নূসরাত সুলতানার আবেদনের যোগ্যতা ছিল না বলেও দাবি করেছেন নুরুল হুদা।

প্রসঙ্গত, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেখানে নুরুল হুদার স্ত্রী সাদিয়ার সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায় তাকে। ফোনালাপে অধ্যাপক জাকারিয়া সাদিয়াকে বলেন, "আচ্ছা মা, একটা কথা বলতো, আমার খুব শুনতে ইচ্ছা যে, এখানে তোমরা কত টাকা দেওয়ার জন্য রেডি আছো?"

লিখিত বক্তব্যে নুরুল ইসলাম বলেন, "গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ আমার স্ত্রীর সাথে রাবি উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার ফোনালাপ ফাঁসের পর ৩ অক্টোবর আমাকে চাকরি ও ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন অধ্যাপক জাকারিয়া। বিষয়টি গত ১১ অক্টোবর রাবি'র দুই শিক্ষকের মাধ্যমে উপাচার্যকে জানানো হলে তিনি (উপাচার্য) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে তাদেরকে জানান। ওই শিক্ষকদের মাধ্যমে উপাচার্যের পক্ষ থেকে তাকে সমঝোতায় বসার প্রস্তাব দিয়ে চুপ থাকতে বলা হয় আমাকে।" তবে কোন দুই শিক্ষকের মাধ্যমে তিনি উপাচার্যকে বিষয়টি জানিয়েছেন তাদের নাম বলেন নি।

তিনি আরও বলেন, "আবেদনকারীদের যোগ্যতার অনুসারে আমি এলএল বি (অনার্স) ফলাফলে নিয়োগ প্রাপ্তদের চেয়ে এগিয়ে। নিয়োগ প্রাপ্তদের বনশ্রী রাণীর স্নাতকে ৩.৬৪, মো.সালাউদ্দিন সাইমুম ৩.৪২ ও নূর নূসরাত সুলতানা স্নাতকে দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়েছেন। যেখানে স্নাতকে আমার সিজিপিএ ছিল ৩.৬৫।"

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন। তার কাছে প্রত্যেকটি অভিযোগের তথ্য প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগের বিষয় জানতে উপ-উপাচার্য  অধ্যাপক চৌধুরী মো.জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।