• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২১ রাত

সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার স্বামীর লাশ, 'প্রেমিকসহ' স্ত্রী গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ০৭:০৩ রাত ডিসেম্বর ২২, ২০১৯
লাশ
প্রতীকী ছবি

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, নিহত রাজমিস্ত্রি তোতার স্ত্রী সাথী খাতুনের সঙ্গে উজ্জ্বলের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি  জানার পর তিনি দুজনকে বাধা দেন

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী এবং কথিত প্রেমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

গ্রেফতার হওয়া দুজন হলেন-নিহতের স্ত্রী সাথী খাতুন (৩১) এবং কথিত প্রেমিক উজ্জ্বল (২৯)।

সাথীর জবানবন্দি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার ও উজ্জ্বলের  জবানবন্দি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের আদালতে গ্রহণ করা হয়। তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। 

এর আগে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার পাথালিয়া এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। 

এ ঘটনায় নিহত তোফাজ্জল হোসেন তোতার ছোট ভাই তারা মিয়া বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। 

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, নিহত রাজমিস্ত্রি তোতার স্ত্রী সাথী খাতুনের সঙ্গে উজ্জ্বলের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি  জানার পর তিনি দুজনকে বাধা দেন। গত ১৯ ডিসেম্বর সকালে তোতা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন-দাবি করে সাথী পরদিন (২০ ডিসেম্বর) কালিহাতী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। 

নিখোঁজের খবর শুনে তোতার স্বজনরা তাকে খোঁজাখুজি করেন। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, ১৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাথালিয়া বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তোতা। এদিকে মামলার অপর এক আসামি জলিলের বাড়ির পাশে তোতার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়। 

অপরদিকে ২১ ডিসেম্বর দুপুরে একই গ্রামের মোকছেদ আলী তার বাড়ির পূর্ব পাশে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মাটির পাট ভাঙা এবং স্লাব পরিবর্তন করা অবস্থায় পান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা কালিহাতী থানা পুলিশকে খবর দেন। সেদিন বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেপটিক ট্যাংক থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে। লাশটি দেখে স্থানীয় লোকজন নিখোঁজ তোতার লাশ বলে সনাক্ত করেন। 

এবিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "তোতা রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি নিখোঁজ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার স্ত্রী থানায় এসে প্রথমে একটি ডায়েরি করেন। সেই ডায়েরির সূত্র ধরে তোতা মিয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে জানতে পারি, তার স্ত্রীসহ পরকীয়ার প্রেমিক উজ্জ্বল-দুজন মিলে তোতাকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য পার্শ্ববর্তী এক পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে রাখে। সেই সূত্র ধরে সেখান থেকে তার লাশ উদ্ধার করি।"