• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৯ দুপুর

নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

  • প্রকাশিত ০৫:৪৮ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯
জাবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার পাদদেশে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। সংগৃহীত

‘আসলে যারা এই হামলা করেছে তাদের ট্রেনিং হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমে, গেস্টরুমে, ছাত্রলীগের হাতে। আর এখন এই ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধের নাম নিয়ে সংগঠন বানিয়েছে’

ভারতের নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধকরণ (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনের সাথে সংহতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে তারা সাম্প্রদায়িক নাগরিকত্ব আইন বাতিল, ভারতের জয়দেবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ওপর হামলা এবং ডাকসু ভিপির ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম বলেন, “আমরা দেখেছি ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার সহযোগীদের উপর কীভাবে ছাত্রলীগ হামলা করেছে। সারাদেশের মানুষের গর্বের মুক্তিযুদ্ধ, ত্রিশ লাখ মানুষের রক্তের মুক্তিযুদ্ধের নাম নিয়ে এই ছাত্রলীগ তাদের ফায়দা লুটতে এমন বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। আমরা ছাত্রলীগের, হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। বর্তমানে সরকার ছাত্রলীগ নামে যে পেটোয়া বাহিনী বানিয়েছে সেই ছাত্রলীগকে আমরা আমাদের বন্ধুপ্রতীম সংগঠনের ঐক্যবদ্ধতায় প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করবো।”

সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান বলেন, “নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) এ মুসলমান সম্প্রদায় বাদে অন্য সকল ধর্মের মানুষের যুক্ত করা হয়েছে। মোদি সরকার একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরি করেছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের জনগণ এ আন্দোলন করছে। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। একইসঙ্গে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের উপর ছাত্রলীগের যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে তারও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আসলে যারা এই হামলা করেছে তাদের ট্রেনিং হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমে, গেস্টরুমে, ছাত্রলীগের হাতে। আর এখন এই ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধের নাম নিয়ে সংগঠন বানিয়েছে। আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধ নামক এ মঞ্চকে বহিষ্কার করা হোক, আবাঞ্ছিত করা হোক।”

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন রুনু বলেন, “নৈতিক দাবি আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে যদি ছাত্র সংসদের উপর এমন বর্বরোচিত হামলা হয় তাহলে এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক। যারা মুক্তিযুদ্ধের নাম নিয়ে এমন হামলা খুবই ন্যাক্কারজনক। আমরা দেখেছি, এ হামলার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জেনেও তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাননি। সঙ্গত কারণেই এ হামলা যে প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে তা নিশ্চিত।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলে আমরা এ হামলার বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করবো।”

মানববন্ধনে সংহতি জ্ঞাপন করে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মাসুম শাহরিয়ার প্রমুখ।

এদিকে, নুরুল হক নুরসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদ সংলগ্ন মুরাদ চত্বর থেকে একটি মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা নুরুল হকসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদ এবং ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।