• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ সকাল

জামালপুরে সাংবাদিক নির্যাতন: গ্রেফতার আরও ১ আসামি

  • প্রকাশিত ০৬:২৭ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯
জামালপুর
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে আহত সাংবাদিক শেলু আকন্দ। ঢাকা ট্রিবিউন

সাংবাদিক শেলু আকন্দ বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার দুই পা কেটে বাদ দেওয়ার কথা ভাবছেন চিকিৎসকেরা

জামালপুরের সিনিয়র সাংবাদিক শেলু আকন্দের উপর ছাত্রলীগ নেতার নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আসামির নাম তুষার খান (৩৫)। তুষার জামালপুর পৌর দেওয়ানপাড়া এলাকায় থাকেন এবং এই মামলার এক নম্বর আসামি। এর আগে ঘটনার দিন রাতেই ঘটনার মূল হোতা ও মামলার অন্যতম আসামি রাকিব খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাকিব খান পৌর কাউন্সিলর রুনু খানের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেমুজ্জামান বলেন, “সাংবাদিক শেলু আকন্দের উপর নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক নম্বর আসামি তুষার খানকে (৩৫) গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জামালপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে একটি প্রতারক চক্র জাল কাগজপত্র দিয়ে একটি দলিল সম্পাদন করতে গেলে সাব-রেজিষ্ট্রার দলিলটি জব্দ করেন। সেই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক কালেরকণ্ঠের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোস্তফা মঞ্জুর উপর হামলা করে ওই প্রতারক চক্রটি। ওই ঘটনায় সাংবাদিক মোস্তফা মঞ্জুরের দায়ের করা মামলার দুই নম্বর সাক্ষী ছিলেন দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা ও স্থানীয় “পল্লীকণ্ঠ প্রতিদিন” পত্রিকার জামালপুর জেলা প্রতিনিধি শেলু আকন্দ।


আরও পড়ুন - সাংবাদিক পেটানোই বাবা-ছেলের নেশা!


মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণেই গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে জামারপুর সদর ভূমি অফিসের পেছনে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে শহরের বাইপাস রোডে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব খান, তুষার খান, স্বজন খান ও তুহিন খানসহ ৪/৫ জন তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার পাইপ দিয়ে তার দুই পায়ে এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকে। লোহার পাইপ দিয়ে পেটানোর এক পর্যায়ে তিনি (শেলু আকন্দ) পরে গেলে রাকিব ও তার সহযোগীরা চলে যায়। খবর পেয়ে তার স্বজন ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাংবাদিক শেলু আকন্দ বর্তমানে একই চিকিৎসাধীন এবং তার দুই পা কেটে বাদ দেওয়ার কথা ভাবছেন চিকিৎসকেরা।

হামলার পর দিন সাংবাদিক শেলু আকন্দের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন আকন্দ বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় নাম উল্লেখ করে ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।