• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৩ সকাল

সূর্যের দেখায় কিছুটা স্বস্তি, সপ্তাহের বিরতিতে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

  • প্রকাশিত ০৮:৩৮ রাত ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯
কুড়িগ্রাম-শীত
শীতবস্ত্র না থাকায় তীব্র ঠাণ্ডা উপেক্ষা করেই কাজ করছেন কুড়িগ্রামের কৃষকেরা। ইউএনবি

জরাজীর্ণ বাসস্থান আর শীত নিবারণের পর্যাপ্ত পোশাক না থাকায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। যাদের সামান্য সাধ্য রয়েছে তাদের অনেকেই ছুটছেন পুরাতন কাপড়ের দোকানে

প্রায় এক সপ্তাহের মৃদু শৈত্য প্রবাহে পর হালকা রোদের ছোঁয়ায় নাকাল অবস্থা থেকে আপাতত রেহাই মিলেছে কুড়িগ্রামের শীতার্তদের। তবে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতের তীব্রতা থেকে সহসাই মুক্তি পাচ্ছে না জেলাবাসী। জেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার বলছে, তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে এক সপ্তাহ পর আবারও শৈত্য প্রবাহের কবলে পড়তে পারে উত্তরের এই জেলা।

কুড়িগ্রাম কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, “২৩ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্দি পেলেও রাতের তাপমাত্রা অনেকটা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে আগামী ২৯ ডিসেম্বরের পর আরও একটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাঝখানে ২৫ কিংবা ২৬ ডিসেম্বর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও হতে পারে।”

এদিকে এক সপ্তাহের শৈত্য প্রবাহে কনকনে ঠান্ডায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে যার বেশির ভাগ ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশুরা। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৩৮ জন রোগী ডায়রিয়া এবং ২৬ জন রোগী নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে যার বেশির ভাগই শিশু।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিনুর রহমান সরদার জানান, গত ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১০ জন শিশু এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৬ জন। ডায়রিয়া আক্রান্ত ২৬ জনের মধ্যে ২৩ জনই শিশু। এ ছাড়া ডায়রিয়া ও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছে ২৮ জন রোগী।

শীতের কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে দুর্ভোগে রয়েছে শ্রমজীবীসহ জেলার ৪ শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের বাসিন্দারা। জরাজীর্ণ বাসস্থান আর শীত নিবারণের পর্যাপ্ত পোশাক না থাকায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। যাদের সামান্য সাধ্য রয়েছে তাদের অনেকেই ছুটছেন পুরাতন কাপড়ের দোকানে।

জেলার হতদরিদ্র ছিন্নমুল মানুষেরা তীব্র শীত কষ্টে ভুগলেও সরকারি বা বেসরকারিভাবে শীত বস্ত্র বিতরণের উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, জেলার ৯ উপজেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য ৫১ হাজার ৫শ ১৪টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা ইতোমধ্যে জেলার ৯ উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে।