• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪২ রাত

'পুনাক'-এর শোরুম বানাতে পুরাকীর্তির দেয়ালের ইট খুলে নিলো পুলিশ

  • প্রকাশিত ১০:৩৭ সকাল ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯
নীলকুঠি-নীলফামারী
২০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন নীলকুঠিটির ইট খুলে নেয় জেলা পুলিশ। ঢাকা ট্রিবিউন

নীলের খামার হিসেবে ব্যবহৃত ওই নীলকুঠি থেকে নীলফামারী জেলার নামকরণ করা হয়েছে

উনবিংশ শতাব্দীতে বর্তমান নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নটখানায় বেশ বড় একটি নীলকুঠি চালু করে ব্রিটিশ । এটি নীলের খামার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই নীলের খামার থেকেই নীলফামারী জেলার নামকরণ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পুরাকীর্তিটির দেয়ালের ইট খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদে বন্ধ ভবন ভাঙার কাজ। নীলফামারীর পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুরাকীর্তি ভাঙার খবরে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই ভবনটির একদিকের অংশের তিনশতাধিক ইট খুলে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় পুরাকীর্তি হিসেবে ভবনটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ শ্রমিকদের দিয়ে নীলকুঠির দেয়ালের ইট খুলে নিতে শুরু করে পুলিশ। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। জেলার ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকা পুরাকীর্তি ভাঙার প্রতিবাদ করেন তারা। এক পর্যায়ে ভাঙার কাজ বন্ধ করা হয়।

ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমতাজ আলী প্রামানিক বলেন, "নীলচাষের স্মৃতিবিজড়িত ওই ভবনটি সংরক্ষণের জন্য কাজ শুরু করেছ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। সেটি হঠাৎ করে কে বা কারা ভাঙছে শুনে এলাকার লোকজন বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে ভাঙার কাজ বন্ধ করাই।"

এদিকে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) একটি শোরুম নির্মাণের জন্য পুরাকীর্তির দেয়াল থেকে ইট খুলে নেওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এসপি মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "ওই জমিটি জেলা পুলিশের। মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য বর্তমানে জমিটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। আমরা ভেবেছিলাম যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবনটি ভেঙে ফেলবে। এমন ধারণা থেকে পুনাক-এর একটি শোরুম নির্মাণে ইটের প্রয়োজন হওয়ায় পরিত্যাক্ত বিবেচনায় ওই ভবন থেকে ইট খুলে আনতে বলা হয় শ্রমিকদের। তবে, এটি যে একটি ঐতিহাসিক ভবন তা আমার জানা ছিল না। জানার সাথে সাথে ভাঙার কাজ বন্ধ করা হয়েছে।"