• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪২ রাত

কারাগারে ‘মানবতার দেওয়াল’!

  • প্রকাশিত ১১:৫৫ সকাল ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯
মানবতার দেওয়াল
খুলনা জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে স্থাপন করা হয়েছে “মানবতার দেওয়াল”ইউএনবি

এই দেওয়ালের মাধ্যমে বন্দিদের কারও অপ্রয়োজনীয় পোশাক অন্যবন্দির প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ তৈরি করেছে। যা শুধুমাত্র খুলনা বিভাগ নয়, সারাদেশের কারাগারেই প্রথম উদ্যোগ

“রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এই স্লোগান দেশের সব কারাগারের প্রধান ফটকে চোখে পড়ে। কারাগার হচ্ছে অপরাধীদের সাজা ভোগের স্থান। এখন সংশোধনাগারও বলা হয়ে থাকে। যেখানে প্রকৃতপক্ষে মানবতা বা সহানুভূতির বড়ই অভাব। যদিও এই ধারণা পাল্টে দিতে কারাগারগুলোকে আধুনিকায়নের জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা জেলা কারাগার একধাপ এগিয়ে রয়েছে। এই কারাভ্যন্তরে স্থাপন করা হয়েছে “মানবতার দেওয়াল”। এই দেওয়ালের মাধ্যমে বন্দিদের কারও অপ্রয়োজনীয় পোশাক বা কাপড় অন্যবন্দির প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ তৈরি করেছে। যা শুধুমাত্র খুলনা বিভাগেই নয়, সারাদেশের কারাগারের মধ্যেও প্রথম উদ্যোগ। কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে এই উদ্যোগ বিভাগের অন্য কারাগারগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন।

জেলা কারাগার সূত্র জানান, বন্দিদের সংশোধন, তাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী এবং সর্বোপরি সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির লক্ষ্যেই খুলনা জেলা কারাভ্যন্তরে “মানবতার দেওয়াল” স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নভেম্বরের শেষের দিকেই এই কার্যক্রম শুরু করা হয়। ৫ ডিসেম্বর খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। এসময় জেলা কারাগার সুপার (তত্ত্বাবধায়ক) মো. কামরুল ইসলাম ও জেলার মো. জান্নাতুল ফরহাদ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, কারাগারে এমন অনেক বন্দি আছেন- যারা খুবই দরিদ্র-অসহায়। একই পোশাক পরেই তাদের দিনের পর দিন কাটাতে হয়। কিন্তু কারও কাছে হাত পাততে পারেন না। আবার অনেকেই আছেন- যারা ধনী ও স্বচ্ছল। যাদের কাছে নিত্য-নতুন পোশাকের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয় না। মূলত এই দু’টি শ্রেণীর মধ্যে সমতা ও পরস্পরের মধ্যে সহানুভূতি তৈরির লক্ষেই “মানবতার দেওয়াল” স্থাপন করা হয়েছে। স্বচ্ছল বন্দীরা তাদের অপ্রয়োজনীয় কাপড় কী করবেন, কাকে দেবেন- এবিষয়ে চিন্তিত না হয়ে অনায়াসেই সেগুলো “মানবতার দেওয়াল”এ ঝুলিয়ে রাখছেন। আবার যাদের প্রয়োজন তারা সেখান থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে কাউকে বলা বা কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেয়ারও দরকার হচ্ছে না। এতে অনেকেরই প্রয়োজন মিটছে।

খুলনা কারাগারের জেলার মো. জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, কারাগারের ভেতরে একটি টিনের শেডের নিচে কিছু জায়গায় টাইলস লাগিয়ে ‘মানবতার দেয়াল’ স্থাপন করা হয়েছে। যাতে এসএম’র রড ও স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। এই দেয়ালের এক প্রান্তে “আপনার অপ্রয়োজনীয় কাপড় এখানে রাখুন” এবং অপরপ্রান্তে “আপনার প্রয়োজনীয় কাপড় এখান থেকে নিয়ে যান” লিখে রাখা হয়েছে। বন্দীরাও এতে সাড়া দিয়ে কেউ কেউ কাপড় রেখে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ নিয়ে যাচ্ছেন।

খুলনা জেলা কারাগারের সুপার (তত্ত্বাবধায়ক) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই কারাভ্যন্তরে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়। বিষয়টিতে বন্দিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে এবং তাদের মধ্যে একধরনের মানবতাবোধও পরিলক্ষিত হচ্ছে।