• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৪ দুপুর

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ১০ বছরে দেড় শতাধিক পর্যটকের মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০৫:২৩ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯
কক্সবাজার
পর্যটকদের সচেতন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সতর্কবার্তা। ঢাকা ট্রিবিউন

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্যটকরা নিয়ম না মানায় দুর্ঘটনা ঘটছে

গত ২৫ ডিসেম্বর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারায় ১৪ বছরের কিশোর দেলোয়ার হোসেন। নিখোঁজের একদিন পর তার মৃতদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ।

শুধু কিশোর দেলোয়ারই নয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে অনেকেই এভাবে অকালে ঝরে গেছেন। দৈনন্দিন জীবন থেকে একটু মুক্তি পেতে ভ্রমণে বেরিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফিরতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, শুধু ২০১৯ সালেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। এছাড়া জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২০ জন পর্যটককে। এর আগের বছর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ১৩ পর্যটকের মৃত্যু হয়। সেবছর ভেসে যাওয়ার পর জীবিত উদ্ধার করা হয় ৩৭ জনকে। আর বিগত দশবছরে দেড় শতাধিক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এদের অধিকাংশই সাগরের পানিতে নামার নির্দেশনা না মানায় কিংবা গুপ্তখালে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

কক্সবাজার জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশ পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, "কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য সাগরে সতর্কতামূলক বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে। সচেতনতার জন্য এসব নির্দেশনা মাইকিং করেও প্রচার করা হয়। কিন্তু, অনেকেই তা মানছে না। সাগরে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের অধিকাংশই নির্দেশনা না মানায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন।"

কী কী ধরনের নির্দেশনা পর্যটকরা অমান্য করায় বারবার বিপত্তি ঘটছে জানতে চাইলে জিল্লুর রহমান বলেন, "অনেকক্ষেত্রেই গোসলের জন্য সংরক্ষিত এলাকা বাদ দিয়ে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে অন্য জায়গায় নামছেন। ভাটার সময় গোসলে নামা বিপজ্জনক হলেও তা মানছেন না। সাগরে লাল নিশানা উড়ানো হলেও অনেকে গোসলে নামেন।"

"এছাড়াও সাঁতার না জেনে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া গোসল করা সাগরে গুপ্তখাল ও গুপ্তচর সৃষ্টি হওয়া নানা করণে মৃত্যু হচ্ছে পর্যটকদের। এজন্য আমাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। অবশ্য, সি নেটিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে প্রাণহানির সংখ্যা একদম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।", যোগ করেন তিনি।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ভিড়। ঢাকা ট্রিবিউনকক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, "কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সতর্কতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন হ্যান্ড মাইকিং করে সাগরে নামার বিষয়ে সতর্ক বার্তা দেয়া হচ্ছে। পর্যটকদের সেবায় জেলা প্রশাসন থেকে ৪০জন বিচ কর্মী ও ৩০ জন লাইফগার্ড সদস্যরা কাজ করছে। এছাড়াও সুগন্ধা, লাবণীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সহায়তাকেন্দ্র (হেল্প ডেস্ক) খোলা হয়েছে।"

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুখিম খানের মতে, "সাগরে গোসল করতে গিয়ে মৃত্যুর হার কমাতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি কক্সবাজারে অবস্থানরত হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরকেও পর্যটকদের সতর্ক করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য প্রতিটি হোটেল-মোটেলে লিফলেট তৈরিসহ সরাসরি সাগরে নামার বিষয়ে সতর্ক করতে হবে।"

টুরিস্ট পুলিশের কর্তব্যরত এসআই মিজান বলেন, "লাবণী পয়েন্ট ছাড়া সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, সিগাল, ডায়াবেটিস হাসপাতাল পয়েন্টে গোসলে নামা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। একইভাবে হিমছড়ি, ইনানী, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন সাগরে গোসল না করার জন্য নিষেধ রয়েছে। কিন্তু, এসব পয়েন্টে পর্যটকদের সতর্ক করতে সৈকত এলাকায় একাধিক লাল নিশানা উড়ানো হলেও কেউ তা মানছে না। বিপুলসংখ্যক পর্যটকদের রক্ষায় টুরিস্ট পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গোসলে নামার আগে অন্তত একবার জোয়ার-ভাটা তথ্যটা সবাই জেনে নেওয়া উচিত। ভাটার সময় গোসলে নামা বিপজ্জনক।"

কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় সাগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দক্ষ উদ্ধারকর্মী বাহিনী, সি নেটিং ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমান চিকিৎসা সেবা, রেসকিউ টাওয়ার স্থাপনে পরামর্শ দিয়েছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে যথাযত কর্যকর পদক্ষেপ নেবেন এমটাই প্রত্যাশা সকলের।