• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

বকেয়া মজুরি পেতে রাস্তায় নামতে হবে কেন, প্রশ্ন পাটকল শ্রমিকদের

  • প্রকাশিত ০২:৪৬ দুপুর ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯
খুলনা-পাটকল
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) পাটকল শ্রমিকদের দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিনে খালিশপুর, আটরা ও নওয়াপাড়া শিল্প এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলে শ্রমিকরা রাজপথে অবস্থান বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) পাটকল শ্রমিকদের দ্বিতীয় দফায় পাটকলে শ্রমিকরা রাজপথে অবস্থান বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন

পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯ রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলে দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচী পালন করছেন পাটকল শ্রমিকরা।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) পাটকল শ্রমিকদের দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিনে খালিশপুর, আটরা ও নওয়াপাড়া শিল্প এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলে শ্রমিকরা রাজপথে অবস্থান বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। মিল উৎপাদন বন্ধ রেখে খালিশপুরের বিআইডিসি রোডে, আটরা ও রাজঘাট এলাকার খুলনা-যশোর মহাসড়কে শ্রমিকরা এ অনশন পালন করেন।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, “নেতৃবৃন্দ আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেটা রক্ষা করতে পারেনি। তাই স্থগিত করা অনশন কর্মসূচী আবারও শুরু হয়েছে।”

প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ'র সভাপতি শাহান শারমিন জানান, “আমরা তাদের কথায় সম্মান জানিয়ে ঢাকা গিয়েছি, বৈঠক করেছি। কিন্তু আমাদের দাবির বিষয়ে কোনও সমাধান হয়নি।

এ তীব্র শীতে কেন পাটকল শ্রমিকদের রাজপথে থাকতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “শ্রমিকদের ৬টি সেক্টরের ৪টি সেক্টর বাস্তবায়ন হল। পাট-সেক্টর করতে এত গড়িমসি কেন? গত কয়েকটা বছর আমরা আশা করেও বারবার প্রতারিত হচ্ছি। আমারা রাস্তায় থাকত চাই না, উৎপাদন বাড়িয়েমিলকে এগিয়ে নিতে চাই। গত কয়েক বছর পাটকলগুলোতে নামমাত্র পাট ক্রয় করা হচ্ছে। উৎপাদন একেবারে তলানিতে। কেন এমন হবে?”

এসময় বকেয়া মজুরি পরিশোধে জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হয় কেন বলে প্রশ্নও সিবিএ সভাপতি।

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর ১১ দফা দাবিতে ৬ দিনের কর্মসূচির ডাক দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। গত ২৫ নভেম্বর থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। আর ১০ ডিসেম্বর শুরু হয় আমরণ অনশন। অনশনের চতুর্থদিন ১৩ ডিসেম্বর মিল এলাকায় ছিল উত্তাপ আর তীব্র উত্তজনা। অনশনে অসুস্থ হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মৃত শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের জানাজা ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্লটিনাম জুট মিল গেটে বিআইডিসি সড়কে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় নিয়ে দাফন করা হয়। আমরন অনশনের চারদিনে ২ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হন।

প্রসঙ্গত, ১৩ ডিসেম্বর রাতে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর নেতারা শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করেন এবং গভীররাতে অনশন ৩দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পাটকলের সিবিএ নন সিবিএ শ্রমিক-নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক হয়।

তৃতীয় দফার এই বৈঠকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নে শ্রম প্রতিমন্ত্রী আরও একমাস সময় চেয়েছেন বলে জানান শ্রমিক নেতারা।